“ভ্রমনের বিড়ম্বনা দেশে-দেশে” / Travel Embarrassment Country Wide :—

"ভ্রমনের বিড়ম্বনা দেশে-দেশে" / Travel Embarrassment country Wide :—**************************************************************************************

#গন্তব্য ঢাকা--উজবেকিস্তান/তাশখন্দ এয়ারপোর্ট :--*********************************************

( উজবেকিস্তান-তথ্য:-

আয়তন ৪,৪৭,৪০০ বর্গকিলোমিটার যা বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ৪ গুন।লোক সংখ্যা ৩ কোটির কিছু বেশী।বলা যায় বাংলাদেশের চেয়ে ৫ গুন কম। )

উজবেকিস্তান যাত্রার প্রাক্কালে ঢাকা বিমান বন্দরে "আটাব"নেতৃবৃন্দ বাম থেকে আল-আমানত এর বাবু তারাধন ঘোষ,রয়েল এয়ার সার্ভিসের আবুল কাশেম,কনকর্ড ইন্টারন্যাশনাল এর আবু জাফর,আল-বকর ট্রাভেলস এর এমদাদ উল্লাহ,আটাব কেন্দ্রীয় প্রেসিডন্ট ডা:এইচ বি এম ইকবাল,(?),এয়ার এক্সপ্রেস এর এনামুল ইসলাম,জুবলী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এর নুরুল আমিন,হাইওয়ে ওভারসীজ এর নুরুল আবসার দুলাল,তারেক ওভারসীজ লি: এর হারুন-অর রশিদ,এশিয়া ওভারসীজ এর আব্দুল মান্নান। ছবি-১৯৯৯।

১৯৯৯ সালের শেষের দিকে আটাব-ATAB (Association of Travel Agent’s of Bangladesh ) এর মার্কেটিং কনফারেন্সে যোগদিতে উজবেকিস্কানের রাজধানী তাসখন্দের উদ্দেশ্যে প্রায় শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সীর মালিক/পরিচালক আটাবের প্রেসিডেন্ট ডা: এইচ বি এম ইকবাল এম,পি,এর নেতৃত্বে ঢাকা থেকে উজবেকিস্তান এয়ারলাইন্স করে রওয়ানা দিই।

আটাব চট্রগ্রাম এর প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব এমদাদ উল্লার নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সদস্য আমরা চট্রগ্রাম থেকে যোগদান করি। সদ্য স্বাধীন দেশ যারা সম্প্রতি রাশিয়া ব্লগ থেকে বের হয়ে নতুন নামকরন হয়েছে উজবেকিস্তান।

ইমাম বুখারি (রঃ) এর সমাদি সৌধে লেখক হারুন-অর রশিদ/সমরখন্দ/উজবেকিস্তান-১৯৯৯


উজবেকিস্তান মূলত মুসলিম প্রধান দেশ।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত থাকাকালীন সময়ে ছোটবেলা থেকে তাশখন্দ,সমরখন্দের নাম শুনে এসেছি।সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারনে তাসখন্দে তৎকালীন চলচিত্র সম্মেলনে পৃথিবীর চলচিত্র জগতের তাবৎ সব বড় বড় নামকরা কলা-কৌশলীরা নিয়মিত যোগদান করতেন।এছাড়া অবিভক্ত ভারতে মোগলদের আবির্ভাব কিন্তু এই তাশখন্দ থেকেই।বলা যায় ইতিহাস ঐতিহ্যে তাশখন্দ একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

"সমরখন্দ" এর বিখ্যাত "HOTEL AFRO ASIOAVE" লবিতে বাম থেকে তারেক ওভারসিজ লিঃ এর হারুন-অর রশিদ,কনকর্ড ইন্তারন্যশনাল এর আবু জাফর ও রইস উদ্দিন।
ছবি-১৯৯৯।

এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় আবেগ জড়িয়ে আছে এই উজবেকিস্তানকে ঘিরে।উজবেকিস্তানেরই আরেকটি বড় নগরী সমরখন্দে শায়িত আছেন বিশ্বখ্যাত হাদীছ সংগ্রাহক হযরত ইমাম আবু-আল বুখারী(র:)।স্বভাবতই উজবেকিস্তানে ভ্রমন নিয়ে আমার উতৎসাহটা একটু বেশী ছিল।

হোটেল "AFRO ASIAOV" লবিতে লেখক হারুন-অর রশিদ /সমরখন্দ /উজবেকিস্তান-১৯৯৯


ঢাকা থেকে তাসখন্দের দূরত্ব প্রায় ২,৭৬২ কি:মি:
এবং মাত্র ৪ ঘন্টা আকাশ ভ্রমন শেষে যথাসময়ে বিমান তাশখন্দ এয়ারপোর্টে অবতরন করে।প্লেন থেকে নেমে সবাই ইমিগ্রেশনে লাইনে দাড়িয়ে গেলাম।আমরা On Arrival ভিসা নিয়ে উজবেকিস্তানে ঢুকব।যেহেতু আমাদের সাথে একজন সরকারী দলের পার্লামেন্ট সদস্য আছেন।তাই বাংলাদেশ এমবেসীর লোকজনও উপস্হিত আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।প্রতিটি পাসপোর্টে Arrival শীল মেরে একে একে প্রায় সকলেই ইমিগ্রেশন শেষ করে চলেছেন ।আমরা বেরিয়ে পড়ব সবাই এক সাথে এরই মধ্যে ঘটে বড় বিপত্তি।আমাদের সাথের এক সদস্যের পাসপোর্টের মেয়াদই চলে গেছে প্রায় মাস খানেক আগে যা ঢাকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায়।কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ন পাসপোর্ট দিয়ে তারা এদেশে ঢুকতে দিবেনা।বড়ই বিড়ম্বনায় পড়ে গেলাম আমরা।

উজবেকিস্তানের "তাশখন্দ" এর একটি বিনোদন পার্কে ছোট বাচ্চাদের সাথে হারুন-অর রশিদ।ছবি-১৯৯৯।


এ অবস্হায় সহযাত্রীকে ছাড়তে নেয়া হলো বিশেষ ব্যাবস্থা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত এয়ারপোর্ট বসেই পাসপোর্ট নবায়নের ব্যবস্হা করলেন।অর্থাৎ দূতাবাসের অফিস থেকে শীল সহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এনে এয়ারপোর্টে নবায়নের ব্যবস্তা করে দিলেন।এতে আমাদের যাত্রা বেশ বিলম্বিত হয় এবং অহেতুক অনভিপ্রেত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে হয় শুধুমাত্র বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিসারের চরম গাফিলতির কারনে।

-----------********------------*********-----------***********-----------***********----------------

মালায়শিয়ার পেনাং সিটির অপূর্ব দৃশ্য।

#গন্তব্য (Penang)“পেনাং” থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক “ডন মাং” (Don Mueang) এয়ারপোর্ট:-************************************************************************************

(থাইল্যান্ড- তথ্য:-

থাইল্যান্ডের আয়তন ৫,১৩,১২০ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের চেয়ে সাড়ে তিনগুন বেশী।কিন্তু জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে অর্ধেকেরও কম প্রায় ৭ কোটি।)


২০১৫ সালের মাঝামাঝি মালয়েশিয়া ভ্রমনের শেষের দিকে কুয়ালালামপুর থেকে বাসে করে সমুদ্র বন্দর পেনাং(Penang) যাই।পেনাং একাধিক দ্বীপে ঘেরা খুবই আকর্ষনীয় একটি পর্যটন কেন্দ্র।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে আসে।নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এটি নি:সন্দেহে আদর্শ জায়গা।যারা মালয়েশিয়া ভ্রমনে আসেন তাদের প্রতি পরামর্শ পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই দ্বীপে একবার ঘুরে যেতে পারেন।মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে মাত্র ৪ ঘন্টায় বাসে কিংবা অন্য বাহনে করে সহজে পেনাং আসা যায়।

পেনাং এর একটি হোটেল লবিতে লেখক হারুন-অর রশিদ -২০১৩

চাইলে বিমানেও আসা যায়।চলাচলের রাস্তা খুবই প্রশস্হ ,চমৎকার এবং নির্ঝন্ঝাট বলা চলে।পেনাংয়ে ৩ দিন অবস্থানের পর ব্যাংকক যাব এ লক্ষ্যে যাত্রার একদিন আগে এয়ার এশিয়ার দুটি টিকেট কিনলাম আমি আর আমার সফর সংগী মি:মান্নানের জন্য। দুরত্ব প্রায় ১০০০ কি:মি:।দুই ঘন্টায় পেনাং থেকে ব্যাংকক যাওয়া যায়।প্রতিদিন এয়ার এশিয়ার একাধিক ফ্লাইট চলাচল করে।সকাল ১১ টায় ফ্লাইট ।

কুয়ালালামপুর এর "বুকিত বিনতাং" এ হারুন-অর রশিদ।
ছবি-২০১৩।

তাই সকাল ৮ টায় আমি আর মি: মান্নান একসাথে বেরিয়ে পড়ি।আমরা এয়ারপোর্ট গামী বাসে উঠি।এগুলো চলাচলের জন্য খুবই উপযোগী।সরকারী নিয়ন্ত্রনাধীন এই পাবলিক পরিবহন গুলোর সার্ভিস অত্যন্ত চমৎকার।প্রতি ৫ মিনিট পর পর গাড়ী আসে ।যাত্রী যাই হোক সিট ক্যাপাসিটির ভিত্তিতে এগাড়ী গুলো চলে।যাত্রীর জন্য বসে থাকেনা।অতিরিক্ত যাত্রী নেবার কোন সুযোগ নেই।বাস গুলোতে প্রতিবন্দীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন গুলো সব সময় রিজার্ভ থাকে।

পেনাং মুল শহর "George Town" এর একটি দৃশ্য।


গাড়ীতে প্রচুর বিদেশী পর্যটক।যাত্রাপথে আমাদের পার্শবর্তী সিটের এক মহিলা পর্যটকের সাথে কথোপকথনে পরিচয় হয়।বলা যায় খুবই স্মার্ট মহিলা সাথে ৫/৭ বছরের দুটি ছোট ছোট বাচ্চা।ভাল ইংরেজী জানেন ।কথার ফাঁকে জানা যায় মহিলাটি এসেছেন মিশরের বিখ্যাত শহর আলেকজান্দ্রিয়া থেকে।সম্প্রতি তার স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়েছে।মালয়েশিয়ায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তাই অপেক্ষায় আছেন।এভাবে কথা বলতে বলতে তার গন্তব্য “জর্জটাউন” এসে গেলাম।আমাদের আমন্ত্রণ জানালেন গাড়ী থেকে নেমে কফি পানের।যেহেতু আমাদের গন্তব্য এয়ারপোর্ট তাই কফি পানের আমন্ত্রণ বিনয়ের সহিত ফিরিয়ে দিলাম।দেখে মনে হলো তিনি খুব হতাশ হলেন।আমরা গাড়ী থেকে তাকে বিদায় জানালাম।
""জর্জটাউন"“ জাতিসংঘ ঘোষিত ওয়ার্লড হেরিটেজ এর অন্তরভূক্ত ।এই শহরের নির্মান শৈলী আর স্হাপনা যেন শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় গড়া।বৃটিশ স্থাপত্য অনুসরনে তৈরী এটি একটি অনেক পুরনো শহর।পর্যটকদের আকর্ষনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই “ জর্জটাউন “।সমুদ্র বন্দর পেনাং এর মুল শহর এই “জর্জটাউন”।

মালেশিয়া পারলামেন্ত ভবনের সামনে বাম থেকে মুন্না,হারুন-অর রশিদ,তাহিন /২০১৩

# গন্তব্য দুবাই থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে এথেন্স (গ্রীস) ভাই আইয়ুব খানের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে:-

( গ্রীস- তথ্য:-

আয়তন ১,৩১,৯৯০ বর্গকিলোমিটার প্রায় বাংলাদেশের কাছাকাছি।জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি বিশ লক্ষ বা বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ গুন কম।)


১৯৮৯ সালের কথা।আমার এক ভাই আইয়ূব খান আবুধাবী গ্রীস এমবেসী থেকে ভিসা নিয়ে এথেন্সের উদ্দেশ্যে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে ভায়া ইস্তাম্বুল হয়ে রওয়ানা দেন।যদিওবা তাহার ইউএই এর রেসিডেন্স ভিসা ছিল।তবুও গ্রীস যাত্রা করলেন এই ভেবে যদি ভাল লাগে থেকে যাবেন না হয় আবার আবুধাবী ফিরে এসে কাজে যোগদান করবেন।যাত্রা পথে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে তুরস্কের অন্যতম প্রধান নগরী ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ ঘন্টার বেশী যাত্রা বিরতি।ট্রানজিট পয়েন্টে যাত্রীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জমা রাখলেন এই বলে ফের এথেন্স যাত্রার মুহূর্তে তাদের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেয়া হবে।

বাম থেকে হারুন-অর রশিদ,আবুধাবি প্রবাসি ভাই আইয়ুব খান ,ভাগিনা ডা; মাহাবুবুর রহমান বাবুল। ছবি-১৯৯৮।


ট্রানজিট পয়েন্টে এরকম অনেক লোক আছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কানেকটিভ ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায়।যথারীতি এথেন্স রওয়ানা হবার সময় হল।লাউড স্পীকারে এবং টিভি স্ক্রীনে ঘোষনা এলো এথেন্স গামী যাত্রীদের বোর্ডিং লাউন্জে সমবেত হওয়ার জন্য।

এ ঘোষনার পর ট্রানজিট পয়েন্টে বোর্ডিং কার্ড প্রদর্শন করে তাহার পাসপোর্ট ফেরত চাইলেন।বিধিবাম!দায়িত্বরত অফিসার অনেকক্ষন খোজাখুজি করেও তাহার পাসপোর্টের কোন হদিছ করতে পারলেন না।রীতিমত ব্যাপারটি নিয়ে এয়ারপোর্টে তোলপাড় পড়ে গেল।যেহেতু তাহার পাসপোর্টে দুই দেশের ভিসা লাগানো ।তাই এই পাসপোর্ট আলাদা মূল্য বহন করে।তখন পাসপোর্টে ফটো পরিবর্তন করে সহজে যেই কেউ একদেশ থেকে অন্যদেশে আসা যাওয়া করতে পারত।অনুমান করা যায় এয়ারপোর্টেরই কোন এক সংঘবদ্ধ চক্র এই পাসপোর্ট চুরির পেছনে জড়িয়ে আছে।


যেহেতু এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাসপোর্ট রক্ষিত ছিল তাই স্বভাবতই দায় দায়িত্ব এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়।ইতিমধ্যে আইয়ুব খান ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট থেকে টেলিফোনে দেশে আমাদের সবার বড় ভাই মরহুম আলহাজ্ব ইউনুছ মিয়াকে ফোন করে তার এই দূর্ঘটনার বর্ননা করে পরামর্শ চান এ অবস্হায় কি করা যায়।

উল্লেখ্য আমাদের বড় ভাই কিন্তু এই ট্রাভেলিং লাইনের তৎকালীন সময়ের জন্য একজন এক্সপার্ট বলা যায়।পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা তাহার ছিল।তিনি যথাসম্ভব পরামর্শ দিয়ে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের উপর দায় চাপিয়ে পরবর্তী করনীয় নির্ধারনের পথ বাতলে দেন।এভাবে অনেক ভোগান্তির পর এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট হারানোর দায় তাদের ঘাড়ে নিতে বাধ্য হন এবং সমাধানের বিকল্প পথে এগিয়ে যান।
যেহেতু পাসপোর্ট নাই তাই মুভমেন্ট করা দু:সাধ্য।কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে একজন দায়িত্বশীল অফিসার দিয়ে তাদের খরচে তুরস্কের রাজধানী আন্কারাস্হ বাংলাদেশ দূতাবাসে আইয়ূব খানেক নিয়ে যান এবং বিস্তারিত অবহিত করে বাংলাদেশী নাগরিক হিসাবে দিনে দিনে নতুন আরেকটি পাসপোর্ট তৈরী করে তার হাতে তুলে দেন।যেহেতু তার পাসপোর্টে কোন দেশের ভিসা নাই।তাই তাকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়। তুরস্ক ইমিগ্রেশনের কিছু লোভী দুষ্ট লোকের কারনে একজন মানুষের ইউরোপ ভ্রমনের স্বপ্ন এভাবে ভেংগে চুরমার হয়ে গেল।একটি কথা বিদেশ গামী সবাইকে সব সময় মাথায় রাখতে হবে ভ্রমনের সময় পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডক্যুমেন্ট হল সবচেয়ে জরুরী এবং মহামুল্যবান সম্পদ।পাসপোর্ট নাই তো আপনি অবৈধ অনুপ্রবেশ কারী যার ফল অত্যন্ত মারাত্মক।তাই বিদেশ ভ্রমনে সব সময় সতর্কতা বজায় রাখতে হয়।
--------******--------********----------********---------*******----------++++++-----------

*বিড়ম্বনা-১“

যথাসময়ে আমরা পেনাং বিমান বন্দরে পৌছে গেলাম।আমাদের আলাদা কোন লাগেজ নাই।শুধু হ্যান্ড লাগেজ।এয়ার এশিয়ার কাউন্টারে চেক ইন শেষে বোর্ডিং পাশ নিয়ে ইমিগ্রশনের জন্য লাইনে দাড়ালাম।দ্রুত ইমিগ্রেশন সেরে ফ্লাইটের বোর্ডিং ব্রীজে যাবার আগে কাস্টম চেক করাতে হয়।এখানে এসে বিড়ম্বনার স্বীকার হলাম।কাস্টমস চেকে দায়িত্বরত হিজাব পরিহিত মালয়েসিয়ান মহিলা হ্যান্ড লাগেজ খুলে একে একে লিকুইড সাবান,শ্যাম্পু,পারফিউম ইত্যাদি বের করে বললেন হ্যান্ড লাগেজে এসব পরিবহন করা যাবেনা ।কারন এগুলো দাহ্য পদার্থ।প্রায় কয়েক হাজার টাকার জিনিস ব্যাক্তুিগত ব্যবহারের জন্য কিনেছিলাম।অনেক অনুরোধ করলাম কিন্তু কোন ছাড় দিলেন না।অগত্যা আমরা বললাম তাহলে এসব পুনরায় লাগেজে দিয়ে আসব।তাতে তিনি সম্মতি দিলেন।


খুলে ফেলা দ্রব্যগুলো হ্যান্ড লাগেজে দ্রুত ঢুকিয়ে আবার ফিরে এলাম ইমিগ্রেশন কাউন্টারে।ওখানে ফিল্ডের দায়িত্বরত অফিসার Mr.Mydin (নামটা এখনো মনে আছে) কে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললাম এবং জানালাম কিছু নিত্য ব্যবহার্য ঘরের দ্রব্য কাষ্টম চেকিংয়ে হ্যান্ড লাগেজে এলাউ করছেনা ।তাই আমাদের পুনরায় এয়ার এশিয়ার কাউন্টারে যেতে হবে।তিনি সাথে সাথে সম্মতি দিলেন এবং আমাদের পাসপোর্ট দুটি হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরে রেখে বললেন “আমি তোমাদের পাসপোর্ট নিয়ে এখানে দাড়িয়ে আঁছি ,তোমরা দ্রুত কাজ সেরে ফিরে এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাবে।কোন ভয় নেই ,আমার নামটা মনে রেখ”।যেহেতু আমাদের পাসপোর্টে Exit সিল পড়ে গেছে তাই পাসপোর্ট নিয়ে পূন:প্রবেশের কোন সুযোগ নেই।তার কথা মত আমরা দ্রুত পায়ে এয়ার এশিয়ার কাউন্টারে ফিরে গিয়ে লাগেজ দিতে গেলাম।কাউন্টারটি ইমিগ্রেশন থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে ।লাগেজ দিতে গিয়ে এয়ার এশিয়া লাগেজ ভাড়া বাবত ২০০ রিংগিত দাবী করে বসে।যেহেতু এত বিড়ম্বনা শেষে এতদূর এসে গেছি তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভাড়া বাবত ২০০ রিংগিত পরিশোধ করে অত্যন্ত দ্রুততার সহিত ইমিগ্রেশনে এসে Mr.Mydin কে ধন্যবাদ জানিয়ে পাসপোর্ট ফেরত নিলাম আর সময়মত ফ্লাইটে উঠে আসন নিয়ে নিলাম।


নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট ছেড়ে দিল এবং নিরাপদে ও নির্ধারিত সময়ে আমরা ব্যাংককের “ডন মাং”এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম।এটা ব্যাংককের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।এই বিমান বন্দরে এয়ার এশিয়া,মালিন্দু এয়ারলাইন্স এবং আভ্যন্তরিন ফ্লাইট অপারেট করে থাকে।ব্যাংককের মুল বিমান বন্দর” সুবর্ন ভুমি”(Suvarnabhumi Airport) আর “ডন মাং“(Don Mueang Airport ) খুব কাছাকাছি।


*বিড়ম্বনা-২“

এয়ারপোর্ট নেমে ইমিগ্রেশনে দুজন দুই লাইনে দাঁড়ালাম।বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিনা বাধায় দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে বিদায় দিচ্ছে।কিন্তু আমাদের বেলায় ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্ট দেখে অন্য এক অফিসারকে ইশারা করলেন।তিনি এসে দুজনকেই লাইন থেকে আলাদা করে পাসপোর্ট হাতে নিয়ে এক পাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং বলেন “বাংলাদেশ,ভারত এবং পাকিস্তানী নাগরিক যারা এই রুট ব্যবহার করেন তাদেরকে ব্যাংককে ঢুকতে হলে অবশ্যই মালয়েশিয়ান ২০০০ রিংগিত বা $৫০০ডলার শো করতে হবে।অন্যথায় তাদের ঢুকতে দেয়া হবে না।”আমার পকেটে তখন নগদ$৩০০ ডলার ছিল এগুলো দেখিয়ে আমরা একটু তর্কে গেলাম এবং তাদের দেখালাম মাত্র ৩ দিন আমরা ব্যাংককে থাকব আর আমাদের ঢাকায় ফিরতি বিমান রি-কনফার্ম করা আছে তারপরও কেন অত বেশী ডলার লাগবে।তারা বলল এটাই তাদের নিয়ম।


এক পর্যায়ে আমার সংগী মান্নান পকেট থেকে ইউএই দেরহাম,সৌদি রিয়াল,মালয়েশিয়ান রিংগিত ,বাংলাদেশী টাকা এবং ডলার সহ অনেক গুলো টাকা তাহার সামনে এক সাথে তুলে ধরে বলেন আর কত টাকা দেখাতে হবে? উল্লেখ্য আমার সংগী মান্নান কিন্তু ভাল ইংরেজীতে কথা বলতে পারে।এতগুলো টাকা একসাথে দেখে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন বলে মনে হয়।তিনি হয়ত ভেবেছিলেন আমাদের পকেটে পর্যাপ্ত টাকা নেই।পরে তিনি পাসপোর্ট আমাদের হাতে দিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে ইশারা করলেন Arrival শীল মেরে দিতে।


*বিড়ম্বনা-৩“

ইমিগ্রেশন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ যাত্রার জন্য এয়ারপোর্ট কাউন্টার থেকে টেক্সী ভাড়া করে উঠে পড়লাম।এয়ারপোর্ট টেক্সি গুলো বিদেশী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ।কারন তাদের সিরিয়ালি এয়ারপোর্টে নাম এন্ট্রি করা থাকে।তাই যাত্রীর সাথে কোন ধরনের প্রতারনা করার সাহস পায়না।আমরা যে টেক্সিতে উঠলাম প্রায় মধ্য বয়স্ক লোক।তার সাথে ইংরেজীতে কথোপকথন শুরু করলাম ।একাধিক বার তার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করলাম।কিন্তু তিনি কোন কথাই বলছেন না।পরে বুঝতে পারলাম তিনি মোটেও ইংরেজী বুঝেন না।আমরা তার সাথে বার বার কথা বলার চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে তিনি তার মোবাইল ফোনে এক বন্ধুকে আমাদের কথা বলিয়ে দেন।তার বন্ধু ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন।তাকে জানালাম আমাদের ব্যাংককের Sukumvit এ একটি ভাল হোটেল দেখে পৌছে দিতে হবে।Sukumvit হলো ব্যাংকক শহরের প্রানকেন্দ্র।বেশীর ভাগ পর্যটক এখানেই হোটেলে গুলোতে উঠে থাকেন।

বাংককের একটি রেস্টূরেন্ট এ বাম থেকে হারুন-অর রশিদ ,পাকিস্তানী দুই বন্ধু Fawad Siddiquee & Imran Rehman,আবদুল মান্নান। ছবি-২০১৩।


আমাদের গাড়ী চলছে আর ফাঁকে ফাঁকে মোবাইলে চলমান দৃশ্যাবলী ভিডিও করে চলেছি।এদেশের প্রত্যেক টেক্সীতে সামনের অংশে ড্রাইভারের ID নাম্বার নাম সহ সব কিছু উল্লেখ করে একটি বোর্ড লাগানো থাকে।ভিডিওতে তাও তুলে রাখলাম।আমরা চলছি বটে কিন্তু মনে মনে সন্দেহ পোষন করে চলেছি এই ড্রাইভার আমাদের কোন ভুল যায়গায় নিয়ে যাচ্ছে কিনা।এজন্যে রাস্তার উপরে লাগানো সড়ক নির্দেশিকার উপর চোখ রেখে চলেছি।এক পর্যায়ে মনে হলো Sukumvit লেখা সড়কে না গিয়ে গাড়ী ভিন্ন পথে চলছে।রাস্তার পাশে বড়সড় দোকান দেখে ড্রাইভারকে অনেকটা ধমকের সুরে গাড়ী থামাতে বললাম।এই ফাকে মান্নান পুলিশ কথাটি একাধিক বার উল্লেখ করাতে ড্রাইভার তাড়াতাড়ি গাড়ী থামিয়ে দেন এবং ডেস্কবোর্ড থেকে একটা টেবলেট বের করে মুখে দিয়ে বার কয়েক পানি পান করতে থাকে।তাকে বেশ বিচলিত এবং কিছুটা নার্ভাস বলে মনে হল।

মালয়েশিয়ার পেনাং এর একটি হোটেল লবিতে হারুন-অর রশিদ।ছবি-২০১৩।


আমরা হ্যান্ড লাগেজ সহ গাড়ী থেকে নেমে রাস্তার পার্শ্ববর্তী দোকানের সামনে দাঁড়ালে দোকানের ভিতর থেকে একজন মধ্যবয়সী মহিলা বেরিয়ে আসেন ।তাকে ইংরেজীতে বুঝালাম আমাদের ড্রাইভারের সমস্যার কথা।মহিলা ইংরেজী বুঝেন এবং আমাদের বললেন চিন্তার কোন কারন নাই।এখান থেকে ৩০ মিনিটের পথ Sukumvit ।ইত্যবসরে গাড়ীর দিকে ফিরে থাকাতে দেখি ড্রাইভার ভাড়া না নিয়ে দ্রুত টান দিয়ে চলে গেল।এয়ারপোর্ট থেকে এই পর্যন্ত আসতে গাড়ীর মিটারে ২৩৫ বাথ যা প্রায় বাংলাদেশী ৭০০ টাকার মত উঠেছে।বোকা ড্রাইভার ভয় পেয়ে শেষ পর্যন্ত টাকা না নিয়ে আমাদের ফেলে চলে গেল।অগত্যা ওখান থেকে আরেকটি টেক্সী ভাড়া করে Sukumvit রওয়ানা হলাম।এভাবে নতুন এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে আমাদের ব্যাংকক ভ্রমন শুরু /

------******--------*******--------*******--------******-----------++++++------++++++------

#গন্তব্য কুয়ালালামপুর-ঢাকা-চট্রগ্রাম :-

(মালয়েশিয়া-তথ্য:-মালয়েশিয়ার আয়তন ৩,২৯,৮৪৫ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশী।জনসংখ্যা ৩ কোটি বা বাংলাদেশর চেয়ে ৬ গুন কম।)

মালায়েশিয়ার "পুত্রজায়ায়" প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে হারুন-অর রশিদ। ছবি-২০১৩।


২০১৫ সাল কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা ফিরছি ।সাথে ভাগিনা শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও তার পরিবার।আমরা একটু আগে ভাগে কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট পৌছে গেলাম কিছু ক্রয়ক্রিত দ্রব্যের টেক্স ফেরত নেবার জন্য।মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী পর্যটকদের জন্য টেক্স রিটার্ন এর সুযোগ রেখেছেন।অর্থাৎ যারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করে কেনা কাটা করে দোকানীরা তাদেরকে টেক্স গ্রহনের আলাদা কাগজ দেয়।নিজ দেশে ফিরে আসার সময় চাইলে এয়ারপোর্টে কাউন্টার থেকে টাকা ফেরত নেয়া যায়।শর্ত হল এয়ারপোর্ট অতিক্রম না করা পর্যন্ত ক্রয়ক্রিত মালামাল অবিকল রাখতে হবে তবেই প্রদেয় টেক্স রিটার্ন পাওয়া যায়।


মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট অনেক বিস্তৃত।দৈর্ঘে প্রায় ১ কি:ম: হবে।
এত বড় এয়ারপোর্টে কাজের প্রক্রিয়ার জন্য এয়ারপোর্টের অভ্যন্তরে ৩০ টি সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে কাউন্টারের নির্দেশিকা আছে আর প্রতিটির দুরত্ব প্রায় ৫০ গজ।এখান থেকে ট্যাক্সের অফিসটি খুঁজে নিতে আমাদের অন্ত:ত ৩০ মিনিট লেগেছে।অবশেষে ট্যাক্স প্রদানের উপযুক্ত প্রমান সহ মালামাল অফিসে প্রদর্শন করে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০,০০০/- টাকা ট্যাক্স ফেরত নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে বিমানে উঠে অপেক্ষায় আঁছি কখন বিমান ছাড়বে।
আমরা বোর্ডিং ব্রীজ দিয়ে বিমানে প্রবেশ করেছি তাই বাহিরের পরিবেশ খেয়াল করতে পারিনি ।কিন্তু বিমানে উঠে দেখলাম বৃষ্টি পড়ছে অঝোর ধারায় মুষল ধারে।যাকে ইংরেজীতে বলা হয় “Cats & Dogs” ।সেই সাথে প্রচন্ড বজ্রপাথ।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানি দেখে রীতিমত ভয় পেয়ে যাই।অনেকক্ষন ধরে সব প্লেন উঠানামা বন্ধ।এভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক প্লেনে বসে কেটে দিলাম।মনে মনে দু:শ্চিন্তা শুরু হলো নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের কানেকটিং ফ্লাইট ধরতে পারব কিনা? কারন ২ ঘন্টা পর কানেক্টিং ফ্লাইট ।

কুয়ালালামপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানে ফেরার পথে প্লেনে ভাগিনা শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার ছোট মেয়ে তাহিয়ার সাথে। ছবি-২০১৭।

ইতিমধ্যে ১ ঘন্টা সময় দেরী হয়ে গেছে।অবশেষে প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে ক্যাপ্টেইন ফ্লাইট নিয়ে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং যথারীতি সাড়ে ৩ ঘন্টায় বিমান ঢাকায় অবতরন করে।
প্রচুর যাত্রী ।আমরা কানেকটিং ফ্লাইটের কথা বলে আগে ভাগে ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত লাগেজ বেল্টে গিয়ে অপেক্ষায় আছি।কিন্তু লাগেজ আসতে কিছুটা দেরী করে ফেলে।ঘড়ির দিকে থাকিয়ে দেখি আর মাত্র ১৫ মিনিট সময় আছে ।লাগেজ নিয়ে খুব দ্রুত পায়ে হেটে ডমেস্টিক কাউন্টারে এসে দেখি কাউন্টার মাত্র ৫ মিনিট আগে বন্ধ করে ফেলেছে।প্রচন্ড মানসিক টেনশনে পড়ে গেলাম।মাত্র অল্প কয়েক মিনিটের জন্য চট্রগ্রাম গামী ফ্লাইট হাতছাড়া হয়ে গেল।বাড়ীর কাছে এসেও বাড়ীতে যেতে পারলাম না।
অগত্যা অনেক খোজাখুজি করে বিমানের সংশ্লিষ্ট এয়ারপোর্ট ম্যানেজারের অফিসে গিয়ে ঘটনা খুলে বলি এবং এতরাত্রে ফ্যামিলী নিয়ে কোথায় উঠব তা নিয়ে দুশ্চিনতার কথা বলে আমাদের সহযোগীতার অনুরোধ করি।তিনি এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল রুমে লোক পাঠিয়ে বিমান দেরিতে আসায় আমরা কানেকটিং ফ্লাইট মিস করেছি আমাদের এই দাবীর সত্যতা খুঁজে পান ।সাথে সাথে তিনি সকালের প্রথম ফ্লাইটে আমাদের রি-কনফার্ম করে দেন এবং উত্তরায় বিমানের গেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্হা করে দেন ।অবশ্য গেস্ট হাউসে আমাদের অর্ধেক ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।তারপরেও বলব মন্দের ভাল।রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে এয়ারপোর্টের দিকে রওয়ানা হলাম।প্রাকৃতিক কারনে আমাদের ভ্রমনের এই বিড়ম্বনাকে নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়ে আত্নতুষ্টিতে বাড়ী পৌঁছলাম।
--------******----------******--------********---------********---------++++++----------++++++---------

#গন্তব্য দিল্লী থেকে কলকাতা:---

( ভারত-তথ্য:-আয়তন ৩২,৮৭,২৬৩ কিমি,বাংলাদেশের চেয়ে ২২ গুন বড়।লোকসংখ্যা ১২৫ কোটি যা বাংলাদেশের থেকে ৭ গুন বেশী।)

ভাতিজা তানিম মহসিনের সাথে একটি অনুস্টানে বাম থেকে হারুন-অর রশিদ,আমার ছোট ছেলে আদনান রশিদ ও ভাতিজা তানিম মহসিন। ছবি -২০১৭


২০০১ সালে ভাতিজা তানিমকে (বর্তমানে নিউইয়র্ক প্রবাসী) সাথে নিয়ে ভারতের জয়পুর,আজমীর ও আগ্রা ভ্রমন শেষে দিল্লিতে ৩দিনের সফরের ২য় দিনে “কনোঘাট প্লেসের” একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে কলকাতা-চট্রগ্রামের দুটি বিমানের Ticket কিনতে যাই।আমাদের দিল্লী -কলকাতা যাত্রায় রাজধানী এক্সপ্রেসের Ticket করা আছে।কলকাতা পৌছে যেহেতু তারপরের দিনই আমরা চট্রগ্রামের পথ ধরব তাই আগে ভাগে দিল্লী থেকেই Ticket কিনে নিশ্চিন্ত হতে চাইলাম।বাংলাদেশ বিমানের নাম শুনে সেল্সম্যান যেন একটু নাক সিটকালেন।তখন বিমানের দেরিতে যাত্রা করাই ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার ।তাই এভিয়েশান মার্কেটে বিমানের যথেষ্ট দুর্নাম ছিল।বুকিং দিয়ে টাকা জমা করে দিলাম কিন্তু টিকেট দিতে পারলেন না প্রিন্টিং মিসটেকের কারনে।বললেন সকালে এসে টিকেট নিয়ে যেতে।যেহেতু আমাদের ট্রেন কাল বিকালে আর হোটেলও কাছাকাছি তাই সকালে এসে Ticket নিয়ে যেতে আপত্তি করলাম না।

Image may contain: Mohammed Harun-or Rashid and MD Mohsin, people standing
পবিত্র আজমির শারিফে ভাতিজা তানিম সহ ।ছবি-২০০১ সাল।


যথারীতি তারপর দিন সকাল ১০ টার দিকে টিকেট নিতে এজেন্সিতে এসে দেখি বন্ধ।তার উপর হাতের লেখা একটি কাগজ ঝুলিয়ে আছে যেটাতে লেখা আছে মালিকের মায়ের মৃত্যুতে অফিস বন্ধ।লেখাটা পড়ে যেন মাথার উপর বাজ পড়ল ।কারন আজ বিকালে আমাদের ট্রেন যেটা মিস করার কোন সুযোগ নেই ।তার উপর হাতের টাকাও প্রায় ফুরিয়ে গেছে।কলকাতায় গিয়ে নতুন করে Ticket কিনব সেটাও ভাবতে পারছি না।তাছাড়া এখানে পরিচিত এমন কেউ নেই যে Ticket এর টাকা ফেরত নিয়ে আমাদের পাঠাতে বলব।আশে পাশের দোকানদারদের বলেও কোন সুরাহা করতে পারলাম না।এভাবে দুশ্চিন্তায় বেশ কয়েক ঘন্টা কাটিয়ে দিলাম।
অবশেষে দুপুরের Lunch সেরে শেষ বারের মত আবার দেখতে এলাম কিছু করা যায় কিনা।গিয়ে দেখি একজন লোক অফিস খুলছে।আমরা কাছে গিয়ে এই বিড়ম্বনার কথা বলতে গিয়েও আর বলিনি ।তিনি নিজে থেকে বললেন আমাদের আজ বিকালে কলকাতায় চলে যাওয়ার কথা তাদের মনে আছে সেই কারনে শুধুমাত্র আমাদের Ticket ডেলিভারী দিতে অফিস খুলেছেন।একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকেট হাতে পেয়ে এত বিড়ম্বনার মাঝেও মনটা খুশীতে ভরে গেল।
--------*******--------*******--------*******-------*******----------+++++++----------++++++++-------

#গন্তব্য চট্রগ্রাম-জেদ্দা এয়ারপোর্ট-মক্কা :---

(সৌদি আরব-তথ্য:-আয়তন ২১,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের প্রায় ১৫ গুন।লোক সংখ্যা ৩কোটি ৩০ লক্ষ অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়েপ্রায় ৫ গুন কম।)


২০১৩ সাল।পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে চট্রগ্রাম বিমান বন্দর থেকে সরাসরি জেদ্দার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিমানে উড়াল দিলাম।সাথে আমার বড় বোন এবং তাহার বড় ছেলে ভাগিনা ডা: বাবুল ও তার স্ত্রী।আমরা চট্রগ্রাম বিমান বন্দর থেকেই এহরাম পরিধান করেছিলীম যেহেতু আমরা প্রথমে গিয়েই পবিত্র ওমরাহ পালন করব।
বিমানে আমরা ছাড়াও আরো বেশ কিছু ওমরা যাত্রী সহ সর্বমোট প্রায় ৩০০ জন যাত্রী আছেন।তবে বেশীর ভাগ যাত্রীই বাংলাদেশী রেমিটেন্স যোদ্ধা সৌদি প্রবাসী।বিমান বন্দরের আনুষ্টানিকতা সেরে রাত দেড়টায় চট্রগ্রাম থেকে বিমান ছাড়ে এবং প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা পর বিমান জেদ্দা এয়ারপোর্টে অবতরন করে।ভ্রমন পথে বিমান স্টুয়ার্ডদের আন্তরিক সেবার কোন কমতি ছিলনা। আমি সচরাচর প্লেনে কোথাও গেলে আকাশের দৃশ্য উপভোগ করি এবং কোন কোন দেশের উপর দিয়ে বিমান উড়ছে তা ম্যাপে দেখে জানালা দিয়ে নীছে দেখার চেষ্টা করি।রাতের আকাশ তাই বাহিরে দেখার সুযোগ ছিলনা।ভোরের আলো ফুটতেই আমরা জেদ্দা পৌছে যাই।


প্রায় ৫৩৯৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ভ্রমন শেষে ইমিগ্রেশনের লাইনে সবাই হড়োহুড়ি করে দাড়িয়ে পড়লাম।লাইনে আমরা কিছুটা পেছনে পড়ে যাই।ইমিগ্রেশন তখনও খোলেনি।লাইনে দাঁড়ানো অবস্হায় লক্ষ্য করলাম বাংলাদেশী কিছু লোক ক্লিনার হিসাবে এয়ারপোর্টের অভ্যন্তরে কাজ করছে।তারা কাছে এসে মোবাইল সিম বিক্রির কথা জানাল।তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে দেশী ভাই হিসাবে ৪৫ রিয়াল দিয়ে একটি সিম কার্ড কিনে নিলাম।যাতে এয়ারপোর্ট থেকে সকলের সাথে সহযে যোগাযোগ করা যায়।এই সিম দিয়ে ১৫দিন আনলিমিটেড ইন্টারন্যাশনাল কল করা যায়।ইত্যবসরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে এসে পৌছে গেছেন।গায়ে এহরাম পরিহিত থাকায় ওমরাহ যাত্রী হিসাবে সবার আগে আমাদের আসতে ইশারা করলেন।ওমরাহ যাত্রী সাথে মহিলা তাই আমরা একটু ফেভার পেলাম।


ইমিগ্রেশনর কাজ সেরে পাসপোর্ট হাতে নিয়ে দ্রুত কাস্টমস চেকিং সেরে বাহিরে বেরিয়ে পড়তে উদ্যত হই।এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই সোজা মক্কার পথে রওয়ানা দেব যেহেতু আমাদের নেবার জন্য গাড়ী অপেক্ষা করে আছে।সুতরাং অনেকটা ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে না।কিন্তু আমাদের জন্য যে আরো বিড়ম্বনা তথা দূর্ভোগ অপেক্ষা করছে সেটা জানা ছিলনা। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীরা ইতিমধ্যে এয়ারপোর্ট এরাইভাল লাউঞ্জে ভীড় করতে শুরু করেছেন।এগিয়ে যেতে দেখলামগেট পেরিয়ে বের হবার একটু আগে কয়েকজন আরবী ভদ্রলোক হাতে পাসপোর্ট নিয়ে হাত উঁচু করে ডাকছেন-“ইয়াল্লাহ্ হাজী”-“ইয়াল্লাহ্ হাজী”।যারা ওমরাহ যাত্রী তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই তারা সবাইকে ডেকে চলেছেন। ওমরাহ হাজিরা সাধারণত এহরাম পরিধান করেই নিজ দেশ থেকে রওয়ানা হন।যেহেতু আমাদের এহরামের কাপড় পরিধান করা আছে তাই আমরা কাছে আসতেই একজন আমাদের কাছ থেকে সব পাসপোর্ট হাতে নিয়ে ইশারা করলেন অপেক্ষা করতে।


ব্যাপারটিতে আমরা মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।বুঝে উঠতে পারছিলাম না ইমিগ্রেশন,কাস্টম সবকিছু শেষ হওয়ার পরও কেন আবার আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে নিল।আর কেনইবা অপেক্ষায় রাখল।ইতিমধ্যে ভোর পেরিয়ে সকালও গড়িয়ে গেল।ইমিগ্রেশনের এত কিছু শেষ করতে যেয়ে দানা পানি কিছুই মুখে দিতে পারি নাই।সেই যে দেশ থেকে ফ্লাইটে উঠার প্রায় ৩ ঘন্টা পূর্বে এয়ারপোর্ট পৌছি।তারও ৩ ঘন্টা আগে ঘর থেকে বের হই।অর্থাৎ গতকাল সন্ধ্যা ৭ টা থেকে এখন সকাল ১১ টা প্রায় ১৬ ঘন্টা কাটিয়ে দিলাম এখনও গন্তব্যে পৌছতে পারিনি।দুশ্চিন্তা না জানি আরো কতক্ষন লাগে।


ওয়েটিংয়ে গিয়ে দেখলাম এভাবে শত শত ওমরাহ যাত্রীকে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখেছে।যেহেতু আমরা আরবি ভাষা জানিনা তাই কিছু জিজ্ঞেস করতে পারিনি।ইংরেজীতে তাদের খুব একটা দখল নেই।পার্শ্ববর্তী যাত্রীদের থেকে যা জানলাম তার সারমর্ম হল এই-এখন থেকে ওমরাহ যাত্রী যারা আসবেন তাদের ব্যাক্তিগতভাবে যেতে দেয়া হবে না।এদেশের যে কাফেলার নামে ভিসা লেগেছে সেই কাফেলার লোক সরাসরি মক্কায় হোটেলে পৌছে দিয়ে ম্যানেজারের জিম্মায় পাসপোর্ট হস্তান্তর করবে।এর আগে তারা পাসপোর্ট যাত্রীর হাতে দিবেনা।এ ব্যাপারটি আমাদের অজানাই ছিল।আমাদের নিতে যে ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে এসেছে তাকে মোবাইলে কল দিয়ে ভিতরে নিয়ে আসলাম।তাকে ঘটনা সবিস্তারে জানালাম।তিনি কাউন্টারে গিয়ে ঐ ভদ্রলোককে বুঝিয়ে বললেন যে তিনি এখানকার রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে আছেন এবং আমাদের নিতে এসেছেন।তার জিম্মায় আমাদের যেতে দেবার অনুরোধ জানালেন।কিন্তু তারা কিছুতেই রাজী হলোনা।অগত্যা ঐ ড্রাইভার আমাদের ফেলে ফের মক্কা চলে গেলেন।


আমরা অপেক্ষায় রইলাম কখন আমাদের ডাক পড়ে ।প্রায় আরো ঘন্টা খানেক পর এক পাকিস্তানী মিনি বাস চালককে সৌদি এজেন্সীর লোক আমাদের পাসপোর্ট বুঝিয়ে দিলেন এবং ইশারা করলেন সবাইকে তাকে অনুসরন করতে।দেশী বিদেশী প্রায় ১৫ জন যাত্রী নিয়ে ঐ পাকিস্তানী ড্রাইভার পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে আমাদের নিয়ে রওয়ানা দিলেন।কিন্তু আমি ফের আরও বেশী বিড়ম্বনায় পড়ে গেলাম।কারন আমার সহ যাত্রীরা অন্য গাড়ীতে অন্য এজেন্সির গাড়ীর সাথে।ব্যাপারটা হলো আমাদের ভিসা লেগেছে ভিন্ন দুই এজেন্সির রেফারেন্সে যা দেশ থেকে আসার সময় লক্ষ্য করিনি।পাসপোর্টের পেছনে এদের নামের মোহর লাগানো থাকে।মহান আল্লার অশেষ মেহেরবানীতে প্রায় ২ ঘন্টা পর জেদ্দা বিমান বন্দর থেকে পবিত্র নগরী মক্কায় পৌছলাম আর আমার সহ যাত্রীদের খুঁজে নিলাম একদিন পর।এভাবে দীর্ঘ ভ্রমনের বিড়ম্বনা তীক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
---------******---------*******--------*******---------*******----------++++++-------++++++++-------

# গন্তব্য হংকং থেকে চীন/শেনজেন :---

(চীন-তথ্য:--আয়তন ৯৫,৯৯,৯৬১ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় ৬৫ গুন বড়।জনসংখ্যা ১৪৪ কোটি যা বাংলাদেশের চেয়ে ৮ গুন বেশী।চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ।)

হংকং যাবার পথে বাংলাদেশ বিমানে হারুন-অর রশিদ এবং অন্যন্য। ছবি-১৯৯৬


ATAB(Association of Travel Agent of Bangladesh ) এর মার্কেটিং কনফারেন্স ১৯৯৬ সালে হংকং ও চীনের শেনজেন এ অনুষ্টিত হয়।প্রথম তিন দিনের হংকংয়ে ভ্রমন ও মার্কেটিং কনফারেন্স শেষে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চীনের শেনজেন। শেনজেন চীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরী।হংকং এর রাজধানী Kowloon শহর থেকে আমরা সবাই শেনজেনের উদ্দ্যেশ্যে সকালে ট্রেনে ছেপে বসলাম।ট্রেনটি সম্পূর্ন স্বয়ংক্রীয়ভাবে চালিত।কোন ষ্টেশন পৌছার একটু আগে স্বয়ংক্রীয়ভাবে লাউড স্পীকারে ঘোষনা আসে।যাত্রীরা আগে থেকে তৈরী থাকেন।ট্রেন দাড়ানোর সাথে সাথে সবাই নেমে পড়ে আবার অনেকে উঠে পড়ে।ব্যাপারটা এমন যেন ছোখের পলকে সব কিছু ঘটছে।ট্রেন গুলোর দরজা অনেক প্রশস্ত।।ট্রেন যখন থামে তখন বডি আার ফুটপাত সমান হয়ে যায়।অনায়াসে যে কেউ লাগেজ নিয়ে সহজে উঠানামা করতে পারে।তাই তত বেশী সময়ের প্রয়োজন হয়না। এভাবে কয়েক ষ্টেশন পার হয়ে প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট পর আমরা চীনের সীমান্তের শহর শেনজেন এর কাছাকাছি পৌছে গেলাম।

হংকং বিমান বন্দরে "আটাব" সদস্যরা বাম থেকে অন্যান্যের মঝে এয়ার এক্সপ্রেসের এনামুল ইসলাম,তারেক ওভারসীজ লি: এর হারুন-অর-রশিদ,পেয়ারুল ইসলাম,এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল এর আবুল খায়ের,লাব্বাইক ট্রাভেল্স এর জামাল উদ্দিন প্রমুখ। ছবি-১৯৯৬।


এই সেই হংকং আর চীনের সীমান্ত পথ।মাঝখানে নদীর উপর একটা ব্রীজ দিয়ে সংযোগ তৈরী করা হয়েছে।আর এর উপরই বিশ্ব বিখ্যাত চলচিত্র অভিনেতা Bruce Lee এর সেই সাড়া জাগানো সিনেমা “Exit The Dragon,Enter The Tiger”এর স্যুটিং হয়েছিল যা আমি ছোটবেলায় পড়েছি আর মার্শাল আর্টের সেই বিখ্যাত সিনেমাটি দেখার সুযোগ ও পেয়েছিলাম।


সীমান্তবর্তী শহর হওয়াতে চীনের মানুষ হংকংয়ের প্রবেশদার হিসাবে শেনজেনকে বেশী ব্যবহার করে থাকে।প্রতি ৫ মিনিট অন্তর ট্রেন আসে আর হাজার হাজার মানুষ দূদিকের সীমানা পার হয়ে অনবরত আসা যাওয়া করে।দেখে মনে হবে যেন জনতার মিছিল। একটু পরে এখানে অবস্থিত চীনা ভিসা অফিসে আটাব নেতারা ভিসার আবেদন জানালে তারা ব্যাক্তিগত ভাবে ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।উপরন্তু একসাথে অনেক বাংলাদেশীকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে।কারন ইতিপূর্বে এতবেশী বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থী তারা কখনো দেখেনি।এখানে একটি কথা আমাদের স্মরনে রাখা উচিত যে সময়ের কথা বলছি তখন চীন ছিল পূরোপূরী কম্যূনিস্ট শাসিত কনজার্ভেটিক সরকার।তখন চীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক বেশী কড়াকড়ি ছিল।এভাবে ভিসার বিড়ম্বনায় আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেল।আমরা দেখছি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা অনায়াসে ভিসা নিয়ে নিয়ে ঢুকে পড়ছে কিন্ত আমরা অবহেলিত রয়ে গেলাম।

হংকং বিমান বন্দরে বাম থেকে তারেক ওভারসিজ লি; এর হারুন-অর রশিদ ও সফরসঙ্গি ন্যাশনাল ট্রাভেল ব্যুরো ও হোটেল জয়-নগরের মরহুম সগির আহমেদ । ছবি-১৯৯৬।


এক পর্যায়ে অনেক দর কষাকষির পর তারা আমাদের ১০ জন করে গ্রূপ ভিসা দেয়ার প্রস্তাব
দেয়।কিন্তু আমাদের আটাব নেতারা তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।কারন গ্রূপ ভিসার সমস্যা হলো সবাই একসাথে না ফিরলে পূনরায় হংকংয়ে ফিরে আসা যাবেনা।একই ট্রেডের ব্যবসায়ী হিসাবে বিষয়টির গুরুত্ব আমরা বুঝি।এভাবে ভিসার জটিলতায় আমাদের দিনের অধিকাংশ সময় মাটি হয়ে গেল।যেখানে আমরা দাড়িয়ে সেখানে খাবারের কোন হোটেল নাই।সারাটা দিন প্রায় অভূক্ত রয়ে গেলাম।এক পর্যায়ে একটি স্ন্যাক্স বারে ফ্রিজ ভর্তি আপেল পেলাম।প্রতি প্যাকেটে ৪টি বড় সাইজের আপেল ২০ হংকং ডলার। অগত্যা সবাই এক পেকেট করে নিয়ে আপেল দিয়েই দূপূরের Lunch সেরে নিলাম।একটু পরে খবর এলো তারা আমাদের ভিসা দিতে রাজী হয়েছে এই শর্তে প্রত্যককে নগদ ৫০০ ডলার দেখাতে হবে।কোন ট্রাভেলার্স চেক তারা গ্রহন করবে না।তার কারন পরের দিন সরকারী ছুটি।তাই চাইলেও কেউ এ চেক ভাংগাতে পারবেনা।যদিওবা অনেকের কাছে হাজার হাজার ডলারের ট্রাভেলার্স চেক ছিল।

চীনের শেনজেন নগরীতে এ হারুন-অর রশিদ। ছবি -১৯৯৬।


আটাব নেতারা এ প্রস্তাব গ্রহন করলেন এবং সবাইকে এক স্থানে জড়ো করে অনুরোধ জানালেন প্রত্যেকের হাতে থাকা নগদ ডলার এক জায়গায় জমা করতে ।কার কত ডলার তা নোট করে রাখা হবে।চীনে প্রবেশ করে প্রত্যেকের ডলার ফিরিয়ে দেয়া হবে।উল্লেখ্য আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশী কয়েকজন শেনজেন সীমান্তে অপেক্ষায় ছিলেন।ভিসার ব্যাপারে তারাই মধ্যস্থতা করেন।শর্তানুযায়ী ১০ টি পাসপোর্ট সাথে ৫০০ ডলার করে প্রতিটিতে একসাথে ভিসা অফিসে জমা করা হয়। কিছুক্ষন পরে ভিসা ষ্টাম্পিং হলে ভিসা অফিসের লোক নাম কল করে ১০ জনকে সাথে নিয়ে সীমানা পেরিয়ে চীনে প্রবেশ করিয়ে তবে পাসপোর্ট হাতে দেয় যাতে একই ডলার পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।এভাবে ১০ জন করে তারা ভিসা দিতে লাগলো।একই সাথে তাদের গোয়েন্দারা আমাদের উপর কড়া নজর রাখছিল।তাদের ধারনা ছিল নগদ এত ডলার আমাদের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব হবেনা, তাই আমাদের অনেকে হয়ত ভিসা পাবেনা।

হংকং বিমান বন্দরে টেলিফোন বুথে হারুন-অর রশিদ। ছবি-১৯৯৬।


একটি প্রবাদ আছে চীনা বুদ্ধি ! কিন্তু আমাদের বাংগালী বুদ্ধি যে আরো বেশী প্রকট একটু পরের ঘটনায় তা বুঝা যাবে।আটাব নেতারা হিসাব করে দেখলেন যত নগদ ডলার আমাদের হাতে আছে এই প্রক্রিয়ায় অধিকাংশের ভিসা লাগলেও ৭/৮ জন ভিসা পাবেনা।কারন নগদ ডলার তখন ফুরিয়ে যাবে।তারা বুদ্ধি করলেন নেতৃস্থানীয় একজন এখানে থেকে যাবেন শেষের ৭/৮ জনকেও সাথে নেবার ব্যবস্তা করবেন।সর্বশেষ ভিসা প্রার্থীর দলনেতাকে বুঝিয়ে দিলেন ওপারের সুপার সপ থেকে কয়েক পেকেট বিস্কিট নিয়ে এর ভিতর নির্দিষ্ট কিছু ডলার দিয়ে সীমান্ত প্রহরীর মাধ্যমে এপারে অবস্থান কারী আমাদের ভাইদের জন্য যেন পাঠিয়ে দেয়া হয়।পেকেটে ডলার থাকবে এটা যেন তারা ঘূনাক্ষরেও বুঝতে না পারে।

চীনের শেনজেন শহরের একটি রেস্টুরেন্ট এ ডানে তারেক ওভারসীজ লি: এর হারুন-অর রশিদ।বামে ন্যাশনাল ট্রাভেল ব্যুরো ও হোটেল জয় নগরের মালিক মরহুম সগির ভাই ,মদিনা ইন্টারন্যাশনাল এর মোঃ ইব্রাহিম ও অন্যান্য।ছবি-১৯৯৬।


যেই ভাবা সেই কাজ।দ্রত ওপার থেকে কথামত বিস্কিটের প্যাকেটে ডলার দিয়ে চীনা প্রহরীদের অনুরোধ করা হয় তারা যেন এপারে থেকে যাওয়া আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের দয়া করে প্যাকেট গুলো পৌছে দেন কারন তারা ক্ষুধার্ত।উল্লেখ্য সীমানা ততবেশী দূরে নয়, চোখে দেখা যায়।মাঝখানে কয়েকশ গজ প্রশস্হ বড় আকারের একটি মাঠ।আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা ওপারে আমাদের ভাইদের কাছে বিস্কিটের প্যাকেট পৌছে দেয়।এদিকে ডলার ভর্তি পেকেট হাতে আসার সাথে সাথে সবাই তৎপর হয়ে উঠেন।দ্রুত ডলার সহ বাকী পাসপোর্ট ভিসার জন্য জমা করা হয়।এতে চীনা কর্তারা খুবই তাজ্জব বনে গেলেন । এই ডলার গুলো কোথা থেকে পেল এটাই তাদের প্রশ্ন।রীতিমত তারা জেরা করতে লাগলেন।কারন তারা ভেবেছিলেন বাকী এ কয়জন আজ চীন ঢুকতে পারবেনা সেটাই তারা চেয়েছিলেন।অনেক বাক বিতন্ডার পর তারা ভিসা দিতে বাধ্য হলেন।আমাদের অভ্যর্থনাকারী বাংগালী বন্ধুরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হলেন যে সীমান্তবর্তী পরিচিত দোকান থেকে ডলার ধার করে এনেছেন আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের জন্য।এভাবে বাংগালীর বুদ্ধির কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন চীনারা।আর আমাদের বিড়ম্বনাও শেষ হলো বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে।
--------*******--------*******--------*********--------*******---------++++++---------++++++--------

#গন্তব্য কলম্বো--বেংগালোরো এয়ারপোর্ট :---

(শ্রীলংকা-তথ্য:-আয়তন ৬৫,৬১০ বর্গকিলোমিটার যা বাংলাদেশের আয়তনের চেয়ে অর্ধেক।জনসংখ্যা ২ কোটি ৩০ লক্ষ ।বাংলাদেশের চেয়ে ৭ গুন কম।)

কলম্বো নগরিতে শ্রীলংকার বিখ্যাত নারকেল জিঞ্জিরার সামনে হারুন-অর রশিদ। ছবি-২০১৯।


২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে সপ্তাহ খানেকের জন্য শ্রীলংকা বেড়াতে যাই।শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বো,সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রকৃতির ভূস্বর্গ বলে খ্যাত বিখ্যাত শহর কেন্ডি (Kendy) এবং সর্বশেষ “Adams Peak” তথা আদম (আ:) এর পায়ের চিহ্ন সম্বলিত আদমের পাহাড় চূড়া পরিদর্শন শেষে কলম্বো থেকে সরাসরি ভারতের বেংগালুরুর উদ্দেশে শ্রীলংকান এয়ারলাইন্স এ যাত্রা করি।শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের সেবার মান নিয়ে আগেও অন্য এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছি এক কথায় অপূর্ব আতিথেয়তা।
এ মূহর্তের লিখার বিষয়বস্ত এয়ারপোর্ট এ ঘটে যাওয়া বিড়ম্বনা।তাই শ্রীলংকা ভ্রমনের বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করলাম না।কলম্বো এয়ারপোর্ট থেকে প্লেন যথা সময়ে ছেড়ে পৌনে ২ ঘন্টার মধ্যে বেংগালুরু এয়ারপোর্ট পৌছে যাই।বেংগালুরু এয়ারপোর্ট বেশ পরিপাটি এবং সুন্দর পরিবেশ।আমরা প্লেন থেকে নেমে সরাসরি ইমিগ্রেশন এ লাইনে দাঁড়াবার অনেক আগে পথে সবাইকে একটি করে ইমিগ্রেশন ফর্ম ধরিয়ে দেয়া হয় যা আবশ্যিকভাবে প্রত্যেক আগমনকারী যাত্রীকে পূরন করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দিতে হয়।


এই ফর্ম পূরন করা অনেকের জন্য বিড়ম্বনার কারন হয়ে দাড়ায়।
কারন কালে ভদ্রে এই ফর্ম পূর্ন করতে হয় বলে অনেকে ভুল করে ফেলেন।আবার অনেকে মোটেও লিখতে জানেন না।তখন তাদের কে অপরের সহযোগীতার দিকে হাত বাড়াতে হয়।ঠিক তেমনি এক কাতারের বয়স্ক ভদ্রলোক যিনি স্ব-স্ত্রীক কলম্বো হয়ে বেংগালুরু এসেছেন চিকিৎসার জন্য পড়েছেন এ সমস্যায়।তিনি আমার সহযোগীতা চাইলেন।যদিওবা তিনি ইংরেজী জানেন না আমার সফর সংগী মনছুর ভাই আরবী ভাষায় কথা বলতে জানেন।ঐ ভদ্রলোক মনছুর ভাইয়ের মাধ্যমে আমাকে তাদের ইমিগ্রেশন কার্ড দুটি ফিল-আপ করার অনুরোধ করেন।আমার ফরম পূরন শেষ হলে ভদ্রতার খাতিরে তাদের কার্ড দুটি পূরন করে দিই।ইতিমধ্য সবাই লাইনে দাড়িয়ে গেছেন।আমাদের ফ্লাইটটি আজকের জন্য সর্বশেষ ফ্লাইট।তাই তেমন লোকজনের ভীড় নেই।

কলম্বো থেকে ক্যান্ডি যাবার পথে ট্রেনে হারুন-অর রশিদ। ছবি-২০১৯।


কয়েকটি কাউন্টার মাত্র খোলা আছে।ইতিমধ্যে একে একে প্রায় সবার ইমিগ্রেশন শেষ ।শুধু আমাকে অনেকক্ষন ধরে অপেক্ষায় রেখেছেন।ব্যাপারটা ঠিক কিছুই বুজতে পারছি না।ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা না বলাই ভাল।তাই আমি চুপচাপ লাইনে দাড়িয়ে আছি।অফিসারটি আমার পাসপোর্ট নিয়ে অনেকক্ষন ধরে উল্টে পাল্টে কি যেন দেখছেন সেই সাথে তার সামনে মনিটরে পর্যবেক্ষন করে আবার আমার দিকে তাকান।আমার ডাবল পাসপোর্ট ।এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট পার হয়ে যায়।সব কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।আর তেমন কোন যাত্রী অবশিষ্ট নাই।অবশেষে তার কাছে জানতে চাইলাম আমার সমস্যাটা কোথায়?


তখন তিনি আমার পিতার নাম আর কেনইবা এই রুট ব্যবহার করে ভারতে আসছি তা জিজ্ঞেস করলেন।আমি আমার পিতার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর বলার সাথে সাথে এই ইব্রাহিম নামটি নিয়ে একাধিক বার কম্পিউটারে স্ক্রীনে বিভিন্ন নামের সাথে বা চেহারার সাথে আমাকে মেলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম।তখন আমি বুঝে গেছি ইব্রাহিম নামটি নিয়েই যত বিপত্তি।কারন আন্তর্জাতিক অপরাধী হিসাবে দাউদ ইব্রাহিম ভারতের কাছে একটি মূর্তিমান আতংক।আর আমি যে সময় ভারতে প্রবেশ করছি সে সময় কাস্মিরকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখী ।যুদ্ধ প্রায় অত্যাসন্ন। সে সময় ভারতীয়দের দেখে মনে হয়েছিল তাদের বেশীর ভাগই আতংকগ্রস্হ।এছাড়া আমার নামের আগে মোহাম্মদ শব্দ টাও যেন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।তাই বাড়তি নিরপত্তার প্রশ্নে অতিরিক্ত সতর্কতা বলা যায় যা আমাকে অনাকাংখিত বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেছে।অবশেষে তিনি আমার পাসপোর্টে Arrival সীল মেরে দেন।এভাবে রাত ১০ টায় ইমিগ্রেশনের বিড়ম্বনা শেষ করে এয়ারপোর্ট টেক্সী নিয়ে বেংগালুরু শহরের দিকে রওয়ানা হলাম।
-------******--------*******--------*******--------********-----------++++++--------+++++++----------

(পাদটীকা:-বিভন্ন দেশে ভ্রমনে গিয়ে অনেক সময় নানান বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয় ।অভিজ্ঞতার আলোকে স্মৃতির এলবাম থেকে কিছু খন্ড চিত্র এখানে তুলে ধরলাম যাতে ভ্রমন পিপাসুদের কাজে লাগে।)


// আর কেউ যদি ভ্রমন কাহিনী গুলো পড়তে চান তাহলে আমার নিজস্ব একটা ব্লগ আছে ।নিম্নের সেই লিংকে গিয়ে পড়তে পারেন।ভ্রমন কাহিনী লেখা অব্যাহত থাকবে।Link as follows.......https://myblog.ostrichbd.com/wp .......//

“সততাই সর্বোকৃষ্ট পন্থা”- বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমানিত:-

“সততাই সর্বোকৃষ্ট পন্থা”-
বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমানিত:-
সিংগাপুরের একটি ঘটনার আলোকে- -
**********************************
******

লেখক মোহাম্মাদ হারুন-অর রশিদ -ছবি-১৯৯৪, হংকং।


আশির দশকে সিংগাপুরে একবার আমার বড় ভাই মরহুম আলহাজ্ব মো: ইউনুছ মিয়াকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল জাল ডলার নিয়ে।তিনি তখন একজন প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে নিয়মিত সিংগাপুর আসা যাওয়া করতেন।

ব্যাপারটা হলো বাংলাদেশে তাহার এক পরিচিত জন ৫০০ ডলার দিয়েছিলেন ষ্টুডিওর জন্য সিংগাপুর থেকে একটি ভাল ক্যামেরা নিয়ে আসতে।ঐ ডলারগুলো তিনি ব্যাংকে দিয়েছিলেন এক্সচ্যেন্জ করতে।ব্যাংকের অফিসার হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন যে এগুলো জাল ডলার।কিন্তু ব্যাপারটা তিনি বুঝতে দেননি।ইতিমধ্যে ব্যাংক অফিসার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দিয়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন।তাদের ধারনা তিনি বড় কোন ডলার জালিয়াত চক্রের সদস্য।আমার বড় ভাই কিছু বুঝে উঠার আগেই সিংগাপুরের পুলিশ ব্যাংকে এসে উপস্থিত এবং তাকে জেরা করতে শুরু করেন।
আমার বড় ভাই কিন্তু ব্যাক্তি জীবনে সব সময় সত্যবাদী ছিলেন এবং ব্যবসায়িক যে কোন অনৈতিক কর্মকান্ড এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন।

Image may contain: 4 people, people standing
আবুধাবীতে একটি পানশালায় আলাপরত বাম থেক মোহাম্মদ আলী,অতিথি হারুন-অর রশীদ,মো:জামাল ,আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল,আকবর হোসেন বাহাদুর। ছবি-১৯৯৭ সাল।

সত্য বলার সুফল সম্মানের সহিত মুক্তি :-
“”””””””””””””””””””””””””””"""""""""""""""
পুলিশের জেরায় তিনি অকপট সব তথ্য বলতে থাকেন-অর্থাৎ তাহার নাম ঠিকানা,তিনি কখন এ দেশে এসেছেন,কি ব্যবসা করেন,বর্তমানে কোন হোটেলে অবস্থান করছেন,রুম নম্বর কত,সর্বোপরি এ ডলারগুলো তিনি কিভাবে পেলেন তাও বলতে থাকেন।আমার বড় ভাই কিন্তু সঠিক তথ্য গুলোই বলে যাচ্ছিলেন।তিনি তথ্যগুলো বলার সাথে সাথে সিংগাপুরের ইন্টেলিজেন্স ব্রান্চ সব তথ্য দ্রততার সহিত যাচাই করতে থাকেন।তারা এত দ্রুত তথ্য যাচাই করতে থাকেন যে প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যে হোটেল রুম থেকে সব মালামাল পুলিশ তাহার সামনে নিয়ে আসে।যা দেখে তিনি রীতিমত তাজ্জব বনে যান।তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে পুলিশ তাহার দেয়া তথ্যমতে এত অল্প সময়ে হোটেলে গিয়ে সব মালামাল সামনে নিয়ে আসবে।
পুলিশ বিভিন্ন পন্থায় সবকিছু যাচাই করে পরখ করলেন এবং তারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন যে ডলার জালিয়াত চক্রের সাথে তাহার আদৌ কোন সম্পর্ক নেই।তাই তাকে ছেড়ে দিলেন এবং সম্মানের সহিত মুক্তি দিলেন শুধু সত্য কথা বলার জন্য।তবে তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেন ডলারগুলো যে জাল তা যেন ব্যাংক থেকে সার্টিফাই করে একটি পত্র দেয়া হয়।কারন দেশে যিনি ডলারগুলো দিয়েছিলেন তিনি হয়তো বিষয়টি বিশ্বাস নাও করতে পারেন।ব্যাংক তাকে সার্টিফিকেট দেয় যা তিনি দেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং ঘটনাটি সবিস্তারে সবাইকে জানিয়েছিলেন।

ব্যাপারটা কিন্তু ভয়ংকর অন্যরকমও হতে পারত যদি তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেন ।সুতরাং এই অভিজ্ঞতা থেকে ছোটবেলায় পড়া সেই অমোঘ বানীকে আমরা আবারও আওড়াতে পারি যা আমাদের লেখা পড়ার জীবনের শুরুতে বাল্যকালে পড়েছিলাম -

# “মিথ্যা বলা মহাপাপ-মিথ্যাবাদী কষ্ট পায়”-
To tell a lie is a great sin.
# “সদা সর্বদা-সত্য কথা বলিব” কিংবা -
Always speak the truth.
# “সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা”-
Honesty is the best policy.
————০——————০————-------

কিবলাতাইন মসজিদ / মদিনা

# পবিত্র নগরী মদিনায় সততার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত :-
**************************************************************
২০১৩ সালের কথা।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে জেদ্দা থেকে আমার বড় বোন(বর্তমানে অসুস্হ),ভাগিনা ডা: বাবুল এবং তার স্ত্রী সহ আমরা একসাথে মদিনা যাই।পবিত্র মদিনা নগরীতে সপ্তাহ খানেক অবস্হান শেষে পুনরায় জেদ্দা ফেরার একদিন আগে বাংগালী এক ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে একটি প্রাইভেট গাড়ীতে চড়ে ভোর বেলায় পবিত্র মসজিদে নববীতে ফজরের নামাজ পড়ে বেরিয়ে পড়ি মদিনার দর্শনীয় স্হান সমূহ পরিদর্শনের জন্য।।সারাদিন আমাদের প্রিয় নবীর স্মৃতি বিজড়িত মদিনার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্হান সমূহ পরিদর্শন শেষে বিকালে হোটেলে ফেরার কিছুক্ষন পরে দেখা গেল আমার বড় বোনের ভ্যানিটি ব্যাগটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।ঐ ব্যাগে $১৫০ ডলার আর অল্প কিছু সৌদি রিয়াল ছিল।এ নিয়ে তিনি খুব হতাশ হয়ে গেলেন।ব্যাগটি কোথায় রেখেছেন বা ফেলে এসেছেন কিনা তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না।আমরা হোটেলে কমপ্লেইন করলাম।হোটেল ম্যানেজার যথারীতি হোটেলের সব স্টাফকে ডেকে ব্যাগটি খুঁজে দেখার নির্দেশ দিলেন এবং কেউ পেয়ে থাকলে যতদ্রুত ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
হোটেলে তল্লাশী শেষে ব্যাগটি খুঁজে না পেয়ে বিফল মনোরথে রুমে চলে এলাম এবং কি করনীয় তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম।কারন তার পরের দিন সকাল ৯ টায় আমাদের জেদ্দায় ফেরার গাড়ী।

Image may contain: 9 people, people sitting, people standing and indoor
বাংলাদেশ সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার সম্বর্ধনা সভায় বসা ডান থেকে সংবর্ধিত অতিথি হারুন-অর রশীদ।
মাঝে সমিতির সভাপতি ইন্জিণিয়ার রফিক সিকদার।ছবি-১৯৯৭

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কাল ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে ঐ বাংগালী ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে যে সমস্ত স্হানে আমরা আজ পরিদর্শনে গিয়েছি সেখানে আবার গিয়ে দেখব কোথাও ব্যাগটি খুঁজে পাওয়া যায় কিনা।
যথারীতি আমরা ভোরে বেরিয়ে পড়ি এবং প্রতিটি স্হানে খোঁজ নিতে থাকি।বেশ কয়েকটি মসজিদে আমরা যাই ।সেখানে গিয়ে তাদের বিষয়টি বলার সাথে সাথে তারা আমাদের মসজিদের ভিতরে নিয়ে যায় এবং সেখানে রক্ষিত বিভিন্ন মালামাল আমাদের পরখ করে দেখতে বলেন।তারা আরো বলেন এখানে কোন কিছু হারায় না।কেউ কিছু ফেলে গেলে এখানে সুরক্ষিত থাকে।যখনই ঐ ব্যাক্তি আসবেন তিনি নিয়ে যেতে পারবেন।দেখলাম সেখানে হাতঘড়ি থেকে শুরু করে অনেক মুল্যবান জিনিস আছে।কিন্তু আমাদের ব্যাগটি খুঁজে ফেলাম না।

সবার শেষে গেলাম মদিনার একটি খেজুরের ফ্যাক্টরীতে ।যেখান থেকে গতকাল আমরা বেশ কিছু খেজুর ক্রয় করেছি।ফ্যাক্টরীর শো-রুমে পা দেয়ার সাথে সাথে ফ্যাক্টরী ম্যানেজার সুদানী কাল লম্বাটে এক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে আমাদের জড়িয়ে ধরলেন এবং তার ড্রইয়ার থেকে দ্রুত ব্যাগটি বের করে দিয়ে বললেন ভাল করে দেখ সবকিছু সঠিক আছে কিনা।ব্যাগটি পাওয়ার পর গতকাল থেকেই তিনি আমাদের খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।নির্দিষ্ট কোন হদিছ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আজ আমাদের দেখেই চিনতে পেরেছিলেন।তাই তিনি ব্যাগটি ফেরত দিতে পেরে যারপর নাই খুশী হলেন যা তার ভাবভংগি দেখে বুঝা যায়।
আমরা ব্যাগের ভিতরে দেখলাম ডলার সহ সব ঠিক আছে। কোন কিছু খোয়া যায়নি যা রীতিমত অবিশ্বাস্য ।এ রকম সৎ মানুষকে দেখে সত্যিই সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম।জনশ্রুতি আছে যে পবিত্র মক্কা-মদিনায় কেউ মিথ্যা বলেনা।চুরি করেনা।
—————————-০——————————-০------------------------০------------------------------

একঝাঁক তরুন প্রবাসী ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।সবার মাঝে ফুল হাতে অতিথি হারুন-অর রশীদ।আবুধাবী।ছবি-১৯৯৭ সাল।

# “মিথ্যা বলার খেসারত/অবশেষে চাকরিচ্যুতি :-“
আবুধাবীর একটি ঘটনা——-

*****************************
বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ভাবে আমরা মিথ্যা কথা বলে থাকি ।বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যেন বিষয়টি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার । পৃথিবীর অনেক দেশে আমার ভ্রমনের সুযোগ হয়েছে কিন্তু কোথাও আমাদের দেশের লোকদের মত কথায় কথায় এভাবে মিথ্যা বলতে দেখিনি।আমরা সচেতন হলেই কিন্ত এ সব অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা বলা এড়িয়ে যেতে পারি।বর্তমানে সেল ফোন আমাদের হাতে হাতে।এ সেল ফোন দিয়েও কিন্তু মানুষ শুরুতে অনেকে মিথ্যা বলে শেষ পর্যন্ত চাকরিচ্যুত হয়েছেন এমন নজিরও আছে।আজ আমি তেমন একটি ঘটনা বলব ।

১৯৯৭ সালে তখন আমি আরব আমিরাত তথা আবুধাবীতে ভ্রমনে ছিলাম।একজন পরিচিত ব্যাক্তি আবুধাবীর একটি কোম্পানীতে সেলস্ ম্যানের চাকরী করতেন।তিনি সারা আমিরাতের বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে কেম্পানীর বিক্রির বিষয় দেখাশুনা করতেন।এক্ষেত্রে বিদেশের সেল্স ম্যানদের যারা গাড়ী ড্রাইভ করতে জানে তাদেরকে গাড়ী সহ দেয়া হয় যোগাযোগের সুবিধার জন্য।এই ব্যাক্তিও গাড়ীর সুবিধা পেয়েছিলেন।


ভদ্রলোকের ঐদিন ডিউটি ছিল আবুধাবী শহরে।
একদিন ডিউটির সময় কোম্পানীর ম্যানেজার যিনি ভিনদেশী নাগরিক অফিসে ভিসিটে এসে দেখলেন তিনি নেই। তাকে মোবাইলে ফোন করে জানতে চান কোথায় আছেন।তিনি মোবাইল রিসিভ করে বলে দিলেন আবুধাবীতে আছেন।অথচ সে সময় তিনি ব্যাক্তিগত কাজে দুবাই ছিলেন।ম্যানেজার তাকে বললেন আমি আপনার অফিসে।আপনার সাথে জরুরী কাজ আছে।এখনই অফিসে আসেন।কিন্তু কয়েক ঘন্টা পার হয়ে গেলেও তিনি অফিসে এসে পৌছতে পারেননি।তখন এক পর্যায়ে ম্যানেজার তাকে জেরা করতে থাকেন এবং জানতে চান প্রকৃত অর্থে এখন তিনি কোথায় আছেন।অবশেষে তিনি সত্য বলতে বাধ্য হন।ম্যানেজার কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে নেন নাই।কারন মিথ্যা তাদের কাছে সম্পূর্ন একটি অপ্রত্যাশিত ব্যাপার।ফল স্বরুপ পরের দিন অহেতুক মিথ্যা বলার পরিনতিতে হলেন চাকরীচ্যূত।
—————————-০——————————-০-----------------০-------------------০------------------

শিকারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের বর্ষপূর্তিতে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন চেয়ারম্যান হারুন-অর রশীদ। ছবি-২০০৫ সাল

বামে চেয়ারম্যানের তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা: মাহাবুবর রহমান বাবুল ,মোহাম্মদ এয়াছিন চেয়ারম্যান এবং ডানে আলহাজ্ব এম,কামাল উদ্দীন ,শওকত হোসেন,মরহুম মো: সিরাজুদ্দৌলা,পূর্বকোণ পত্রিকার সাংবাদিক শিমুল মহাজন ও শিপক কান্তি দেবনাথ।

“ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে অভিজ্ঞতার আলোকে ঘটনা সমূহ- -সততার মূল্যায়ন :-“
**********************************
২০০৭ সালে বহুল আলোচিত ওয়ান/ইলেভেন এর সময় সামরিক শাসন জারির পর সারা দেশে চেয়ারম্যান দের উপর যে ধকল গেছে তা কম-বেশী হয়ত অনেকের মনে আছে।প্রতিদিন খবরের কাগজে কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলে দেখতাম সারা দেশে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাপক ধড় পাকড়।অবশ্য এর পেছনে অনেক সত্যতাও ছিল।সে যাই হোক যেহেতু আমিও একজন ইউপি চেয়ারম্যান ।তাই সব সময় তটস্থ ছিলাম কোন সময় বিপদ আমার ঘাড়ে এসে পড়ে।কারন দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে কোন বাচ-বিচার না করে গনহারে অনেককে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

এ সময় অনেকে নিজ বাড়ী ঘর ফেলে অন্যত্র লুকিয়ে থেকে সাময়িক নিজেকে রক্ষা করেছে।কিন্তু যেখানে সেখানে থাকার অভ্যাস আমার কোন কালেই ছিলনা।তাই অন্যদের মত লুকিয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।সিদ্ধান্তে আসলাম যা কপালে আছে তাই হবে ।আমি ঘরেই থাকব।

আমার এ মনোবলের পেছনে মুল ভিত্তি ছিল আমার সততা।কারন আমার জ্ঞাতসারে ইউপি চেয়ারম্যান কালীন কোন অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলাম না।সব সময় সততার সহিত জনগনের কল্যানে কাজ করেছি এবং বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছি সম্পূর্ন নিরপেক্ষভাবে ।দল মত ,ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান সুযোগ এবং অধিকার নিশ্চিত করেছিলাম।

শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রন্থাগার উদ্বোধনী অনুষ্টানে ফুল হাতে প্রধান অতিথি মরহুম আলহাজ্ব সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এম,পি , ও চেয়ারম্যান হারুন-অর রশীদ।
বামে হাটহাজারী উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দীন বাবর,এ এস পি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় সপ্তাহে তিনদিন সকাল বেলা ইউনিয়ন পরিষদে যেতাম এবং প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আমার শহরের অফিসে চলে যেতাম।বিকাল বেলা আগে প্রতিদিন নজুমিয়া হাটে আমার এক ইউ পি মেম্বারের ফার্নিচারের দোকানে আড্ডা দিতাম।সেখানে বিপুল সংখ্যক দলীয় লোকজন ছাড়াও স্হানীয় জনগন আসতেন।কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পর সেই আড্ডা একদম বন্ধ করে দিই।

প্রতিদিন প্রায় অর্ধেক রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিতাম।ভয় সন্কুল মন নিয়ে মহান আল্লাহকে স্মরন করতাম।আমার বাড়ীটি মুল সড়ক সংলগ্ন হওয়াতে ঝুকিটা বেশী ছিল।যখনই কোন গাড়ীর শব্দ পেতাম মনে হত এই বুঝি কেউ এলো হয়ত আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।এ এক ভয়ানক অনুভূতি ভুক্তভোগি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এ অনুভূতির ভয়াবহতা অনুধাবন করা সম্ভব নয়।এখনও আমাকে এ দূ:সহ অনুভূতির স্মৃতি গুলো তাড়িয়ে বেড়ায়।

এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল।এরই মাঝে একদিন হাটহাজারীর এক পরিচিত সাংবাদিক ছোট ভাই ফোন করে জানালেন “হারুন ভাই আপনার নামে তদন্ত হচ্ছে।DGFI এর এক অফিসার একটি লম্বা তালিকা নিয়ে তদন্তে নেমেছেন।সেখানে আপনার নাম দেখে সতর্ক হওয়ার জন্য আমি ফোন করলাম।” যদিওবা সাংবাদিক ভাইটি ঐ অফিসার কে আমার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দিয়েছেন যে আমার মত ব্যাক্তির নাম এখানে আসতে পারেনা।

তথাপি খবরটা শুনে মনে হলো যেন মাথার উপর আকাশ ভেংগে পড়ল।কারন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে কেউ আমার নামে নালিশ করতে পারে আর আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে।এই পরিস্স্থিতির মাঝেও আমি কিন্তু বাড়ীতেই ছিলাম।
ক্রমাগত ৩ মাস তদন্তের পর DGFI রিপোর্ট দিল আমার নামে অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

এই ব্যাপারটি সবার দৃষ্টিতে আসার পর যখন বিভিন্ন জনে বলাবলি হচ্ছিল সে সময় পরিচিত একজনের মারফত জানলাম (RAB) র্যাবের পক্ষ থেকেও আমার এলাকায় একই সময়ে তদন্ত হয়েছে এবং স্হানীয় সোর্স দিয়ে র্য্যাব আমার গতিবিধি প্রায় মাসাধিক সময় ধরে পর্যবেক্ষন করেছে ।অথচ এ বিষয়টি আমার সম্পূর্ন অজানা ছিল।র্য্যাবের কাছে অভিযোগ ছিল আমি সব সময় সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে চলাফেরা করি এবং সন্ত্রাস লালন করি এবং চাঁদাবাজি করেছি।আরও জানলাম প্রথম সোর্স আমার অনুকুলে রিপোর্ট করায় (RAB)র্য্যাব দ্বিতীয় আরেক জন সোর্সকে দিয়ে পূন: তদন্ত করালে তিনিও একই রিপোর্ট দেন।অর্থাৎ তিনিও রিপোর্ট করেন যে এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি তারা খুঁজে পান নি।

মহান রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপা আর মানুষের ভালবাসা আমাকে এই চরম বিপদ থেকে সেদিন মুক্তি দিয়েছে।আমি বিশ্বাস করি সততাকে আদর্শ মেনেছিলাম বলে এর ফল আমি পেয়েছি।
—————————০———————————০--------------------০--------------------------

চবি ক্যাম্পাসে লাইব্রেরীর সামনে বসা বাম থেকে দর্শন বিভাগের বন্ধুরা -হারুন-অর রশীদ,ফখরুল ইসলাম মজুমদার,নুরুল হাদী চৌং,এমরান ও শাহ আলম।

“ভিন্ন অভিজ্ঞতা-সত্য সব সময় কাজ দেয়না-
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘটনা :-“

********************************************
আবার আমার ব্যাক্তিগত জীবনে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকালীন একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা সত্য সম্পর্কে ভুল ধারনা সৃষ্টি করেছে যে “সত্য সব সময় কাজ দেয় না”।
এইচ এস সি পাশের পর মেডিকেলে অল্প মার্কের জন্য ভর্তি হতে পারিনি।তাই বিজ্ঞান বিভাগটাই বিসর্জন দিয়ে কলা অনুষদের পছন্দনীয় যে কোন সাবজেক্টে ভর্তি হবার মনস্থির করি।চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন সাবজেক্ট ওয়েস ভর্তি পরীক্ষা প্রচলিত ছিল।
১৯৮৬-৮৭ সালে আমি একাধারে রাজনীতি বিজ্ঞান,দর্শন,বাংলা ও ইংরেজী এই চারটি বিভাগেই ভর্তি পরীক্ষা দিই এবং সৌভাগ্যক্রমে সব বিভাগে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করি।আমার কিন্তু মনে মনে ইচ্ছে ছিল রাজনীতি বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব।সে সময় লিখিত পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে মৌখিক পরীক্ষার বহুল প্রচলন ছিল।একেক বিভাগ একেকদিন মৌখিক পরীক্ষা নির্ধারণ করে।
উল্লেখ্য ইতিমধ্যে দর্শন বিভাগে মৌখিক পরীক্ষার পর মেধা তালিকায় ৫ নাম্বারে আমার নাম আসে ।ভর্তি সময় নির্ধারিত করে দেয়া হয়।কিন্তু যেহেতু আমার আগ্রহ রাজনীতি বিজ্ঞান নিয়ে তাই আগে ভাগে ভর্তি না হয়ে অপেক্ষা করতে থাকি।

এর দুদিন পর রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা।তখন বিভাগীয় চেয়ারম্যান ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিজ্ঞানী মরহুম ড: হারুন-অর রশীদ।মৌখিক পরীক্ষায় স্যারদের জিজ্ঞাসিত সব প্রশ্নেরই আমি সঠিক উত্তর দিই।এক পর্যায়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান বললেন-“একটি সত্য কথা বল ,তুমি অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে চান্স পেয়েছ কিনা?” আমি অকপটে সত্য কথা বললাম-হ্যাঁ স্যার ,আমি দর্শন বিভাগে মেধা তালিকায় চান্স পেয়েছি।কিন্তু আমার খুব ইচ্ছা রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার।
স্যার শুনে খুশী হলেন এবং বললেন “ধন্যবাদ তোমাকে -সত্য কথা বলার জন্য ।”
আমার মৌখিক পরীক্ষা শেষ ।ধরে নিলাম নিশ্চিত আমি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম মেধা তালিকায় আমার নাম দেখব।কিন্তু ফলাফল ঘোষনার পর দেখা গেল মেধা তালিকা তো দূরের কথা-ওয়েটিং লিস্টে পর্যন্ত আমার নাম আসে নাই।
তখন আমার আর বুঝতে বাকী রইল না যে দর্শন বিভাগে মেধা তালিকায় আমার নাম এসেছে এই সত্য কথা বলাতে আমি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবার সুযোগ হারালাম।

পরবর্তীতে বাংলা, ইংরেজী বিভাগে আর মৌখিক পরীক্ষা দিলাম না। দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করলাম।তবে অফশনাল সাবজেক্ট হিসাবে রাজনীতি বিজ্ঞান আমার খুব ফেভারিট ছিল এবং পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টও আমি করেছি।সেই থেকে সত্য বলার ক্ষেত্রে আমার ভিন্ন অভিজ্ঞতা -যা সব সময় প্রিয় জনদের বলে থাকি।
তবে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়ত ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

**আসুন সবাই সত্য বলি,মিথ্যা পরিহার করি :-**
””””””০””””০”””””০”””””০””””””০"""""""""
আমাদের সকলের উচিত সব সময় সঠিক পথে চলে সত্য কথা বলার চেষ্টা করা।।সত্য বলতে পারা কিংবা সৎপথে থাকা নি:সন্দেহে একজন ব্যাক্তির জন্য ঈমানী পরীক্ষা।সৎপথে থাকলে নিজের নৈতিক মনোবল শক্ত থাকে ।অনেক বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। এটা পরীক্ষিত ।সর্বোপরি মুসলমান হিসাবে ঈমানের দৃঢ়তা প্রকাশ পায় আর গুনাহ থেকেও দূরে থাকা যায়।

——————————০——————————-0-------------------o--------------------------------

( অভিজ্ঞতার আলোকে স্মৃতির দৃশ্যপট থেকে ঘটনাবলী শেয়ার করলাম।এখানে সংযোজিত ছবি গুলো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।ঘটনাস্থলের প্রতীক হিসাবে ছবি গুলো স্মৃতির এলবাম থেকে শেয়ার করলাম।আর সেই সাথে বর্তমান সময়ের একটি ছবি যোগ করলাম।)

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------

184Hasina Akter, Radyah Ibnat and 182 others18 Comments20 Shares

Some facebook comments----

Nazim Hasan অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা। জীবন চলার পথে সততায় চলতে পারলে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নিজেই সাহায্য করেন তাঁর বান্দাকে, রক্ষা করেন বিপদ আপদ হতে।
খুব ভালো লাগলো প্রিয় ভাই হারুন!
আমার জীবনেও ২৫/২৬ টা দেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতায় এরকম অনেক ঘটনা আছে, যা আমার মহামূল্যবান পাথেয়।
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে সুস্থ সুন্দর নিরাপদ জীবন দান করুন!
আমিন! 💚🌿

  • Mohammed Nurun Nabi Chowdhury অসাধারণ লিখেছেন হারুন ভাই।  শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
  • Shaiful Alam Tipu আমিও আপনার সাথে কন্ঠে কন্ঠে মিলিয়ে বলতে চাইআসুন সবাই সত্য কথা বলি মিথ্যা কথা পরিহার করি, আমি আপনার সাফল্য সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।
  • Md Dowlat ধন্যবাদ আমার প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন হারুন ভাইকে।তার জিবনের স্মৃতির দৃশ্যপট ঘটনা অবলম্বনের জন্য।এক কথায় ধৈর্য্য ও সততাই মানব জীবনের মুল চাবিকাঠি। দৌলত প:বাথুয়া।
  • Fazlul Karim Mina সততা এবং [সবর ]ধৈর্য যার কাছে বিদ্যমান আছে তার সাথে মহান রব্বুল আলামীনের রহমত থাকে। আমিও সরকারি সংস্থার [ওয়ান ইলিভেন]জেরার মুখামুখি হয়েছিলাম দুইদিনে প্রায় ১৫ ঘন্টা রাজনীতি ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনেক তথ্য উনাদের কাছে, দৃঢ়তার সাথে সত্যি উপস্থাপন করেছি আলহামদুলিল্লাহ সন্মানের সাথে রেহাই ---মেলে
  • হারুন ভাই সততার শক্তি অপরিসীম যা আপনি এবং আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। আল্লাহ পাক যেন আপনাদের সবাইকে হেফাজতে থাকার তৌফিক দান করেন আমীন। আসসালামু আলাইকুম।
  • Maleka Nasreen জীবন একটাই, তাই অনেক মূল্যবান বলে আমি মনে করি।সত্য বলা ও সততা রক্ষা করা ফরজ /
  • মোঃ আবুল কাশেম হিরু মানুষের মনে স্হান করে নেয়া কঠিন কাজ কিন্তু আপনি পেরেছেন।
  • Mohd Salimuddin সত্যিই অসাধারণ সব বাস্তব অভিজ্ঞতা, তবুও বলব সত্য বলতে গেলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে কিন্তু সত্যের কাছে মিথ্যার পরাজয় সারাক্ষণ হবেই হবে।আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন। আমিন
  • Sarwar Alam Kutubi শিক্ষণীয় বিষয়গুলো আসলে সবারই এভাবে এফবিতে দেয়া দরকার। এগুলো পড়ে অনেকের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।
  • ধন্যবাদ হারুন ভাই।
  • আপনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে বিভিন্ন কারণে বা রাজনৈতিক কারণে অনুসরণ করতাম। তখন থেকেই জানতাম আপনি একজন খুবই পরিচ্ছন্ন ও ভাল মানুষ।
  • আল্লাহ আপনাকে সুস্থতার সাথে হায়াতে তৈয়বা দান করুক। আমিন।
  • Jamal Mohammed হারুন ভাই সালাম নিবেন, আপনার পুরো লিখা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছি, আমার বাড়ি ধলই ইউনিয়নে, নাসির উদ্দীন পিন্টু যখন আপনাকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক করেন, তখন থেকেই আপনাকে চিনি, পরে অবশ্যই রাজনীতির মাঠে বহু বার দেখা, আপনার জন্য সবসময় শুভ কামনা।
  • Hasina Akter অনেক ভালো একটা মেসেজ দিয়েছো, যা মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে। দাদা তোমার বর্ণাঢ্য জীবনের কয়েকটি লাইন শুধু বলেছো, আরো অনেক কিছু জানার আছে, শোনার আছে।বর্ণাঢ্য বলতে যে বর্ণাঢ্য সময়ের আমিও সাক্ষী তার কথাই বলছি।তোমার স্টুডেন্ট লাইফ, পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার। সামাজিক কর্মকান্ড ইত্যাদি। সময় করে পারলে অল্প অল্প করে লিখে পোস্ট করো যাতে পরের জেনারেশন ইন্সপায়ার্ড হয় এসব জেনে। ক্ষমতায় থেকেও নির্লোভ, নিরহংকারী হয়ে অন্যায় কাজ এবং অন্যায় ব্যাবহার করা থেকে দূরে থাকা যায়। মানুষের সাথে মানুষের মতো ব্যাবহার করা যায়। এবং এই আচার ব্যাবহারের সবটুকু আসে ব্যাক্তির পারিবারিক শিষ্ঠাচার থেকে, এই বিষয়টি তুলে ধরা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়।।
  • Md Jony G S অসাধারণ লিখেছেন হারুন ভাই। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
  • আপনার এই পথ চলা আমাদের অহংকার, আপনার এই আর্দশ আমাদের চলার পথের সঙ্গী।
  • Nurul Anwar Salute . Thanks for sharing this amazing inspiring storie

Mohiuddin Chowdhury It’s a fantastic story of your life and you nicely presented it. Go through your story
got pleasure and feel proud also for one of my best friend’s life history. Every one’s life
have some events, somebody can present
and some are not. Also you were a local chairman and as a man of parts, you have
many capabilities and a also a good political
leader as far as I know, together want to includes and regarding your late elder brother I remembered. May Allah bless him
Jannatul ferdeous “Mr. Younus shaheb” was a very gentleman. As your friend I also got the opportunities talk to him many times as your fried and I felt he would like
me and your family too. Meanwhile agree with you “ Honesty is the best policy and every one should always truth.” It advantage you can not see in a day but you
will see and reach the goal.” Once again thank you so much for your nice post.
Wish you and your family live long and sound health. Stay home and stay safe for
time being. Good day will come back soon
and will do the hand shake.

  • Mohammed Harun-or Rashid reply to Mohiuddin Chowdhury
    Thanks for your nice comments remembering my elder brother Late Mr.Yunus Bhai.
    Really we & our family miss him.
    May Allah bless you & your family too.
    I also hope & pray to Almighty Allah to return us Good day as we are free from Pandemic Corona Virus around whole world.


Monirul Hoque Shawon অবিরাম ভালবাসা আপনার জন্য1

Mohammed Washim Rezaনিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি আপনার মত একজন নেতার কর্মী হতে পেরে❤️আজীবন আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকবে। মহান আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন হাজারো কর্মী সৃষ্টির কারিগর জনাব হারুন অর রশিদ চেয়ারম্যান।

  • Hasina Akter চেয়ারম্যান কই,তাকে তো দেখা যাচ্ছে না!! হ্যা সে সময় অনেকেরই প্রশ্ন ছিলো এটা। কারণ চেয়ারম্যান মানে পাঞ্জাবি পরা বয়স্ক কোন ব্যাক্তি, এমন ফিটফাট, আধুনিক, উচ্চ শিক্ষিত, স্মার্ট, গুড লুকিং অল্প বয়সী ছেলে চেয়ারম্যান হতে পারে, এতো কল্পনার বাইরে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তোমার দায়িত্ব পালন করেছিলে ১০০% নিষ্ঠার সাথে।।

গেন্টিং হাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া- – যেখানে রাতারাতি কোটিপতি হবার হাতছানি:- –

Genting Highland,Malaysia -
Where dreams come truth to be a millionaire:-

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””
গেন্টিং হাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া- -
যেখানে রাতারাতি কোটিপতি হবার হাতছানি:- -

২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবার মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছিলাম।
সেই সফরের কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা Facebook বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আমার আজকের এ লেখা।

Kuala Lumpur এ সে সময় Hotel Management নিয়ে ভাতিজা তাহিন মহসিন ও আমার এক নাতি মুন্না একসাথে পড়াশুনা করছিল।কুয়ালালামপুর পৌছার দুদিন পর আমার সফর সংগী মান্নান ,ভাতিজা তাহিন ও নাতি মুন্না সহ চারজন একসাথে Genting Highland যাবার সিদ্ধান্ত নিই।

Kuala Lumpur সিটি থেকে Genting Highland দূরত্ব ৫৮ কি:ম:।যেতে ১ ঘন্টা সময় লাগে।দুইভাবে যাওয়া যায় ।Kuala Lumpur সিটি থেকে সরাসরি বাসে কিংবা প্রাইভেট কারে করে Genting Highland পাহাড়ের চূড়ায় উঠা যায়।তবে সবচেয়ে রোমান্চকর হলো Genting Highland এর নীছ থেকে Skyway Cable Car করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠা।
আমরা একদিন আগে Kuala Lumpur Central বাস ষ্টেশন থেকে আসা যাওয়ার টিকেট কেটে ফেলি।টিকেট ভাড়া ২০০ রিংগিত।Genting Highland চূড়ায় উপরে উঠা নামার জন্য Cable Car এ টিকেট কাটি।

Genting Highland নীছ থেকে চূড়া প্রায় ৪ কি:মি: খাড়া পথ একাধিক উচূ পাহাড় পেরিয়ে সরাসরি Skyway Cable Car করে যেতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে।এই ৪ কি:মি: দীর্ঘ পথে প্রায় ১০০ Skyway Cable Car চলাচল করছে।প্রতিটি Cable Car এ ৮ জন লোক বসতে পারে।Cable Car গুলো ঘন্টায় ২০ কি:মি: বেগে চলে।আনুমানিক ৫০ ফুট দুরত্ব বজায় রেখে প্রতিটি Cable Car ছুটে চলেছে।

লোকজন Cable Car এ উঠার সময় নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখা হয়। ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গন্তব্যস্তলে পৌঁছে যায়।Cable Car গন্তব্যে পৌঁছলে নামার সময় সেই ছবি মিলিয়ে নেয়া হয় সবাই সঠিকভাবেই ফিরেছে কিনা ।কারন পথে যদি কেউ মিসিং হয় জানার কোন সুযোগ নাই।তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা হয়।আবার ইচ্ছে করলে যে কেউ টাকা দিয়ে ঐ ছবি সংগ্রহ করে রাখতে পারে।

Cable Car এ এই অল্প যাত্রা কিন্তু খুবই রোমান্চকর যারা অধিক সাহসী ।তবে আমার মত যারা একটু দূর্বলচিত্তের তাদের জন্য যাত্রা মোটেও স্বস্তিকর নয়।কারন একাধিক পাহাড় ডিংগিয়ে উপরে উঠার সময় নীছে থাকালে দেখা যায় গভীর ঘন বন-জংগল।ভয়ে গা শিউরে উঠে।একটি তারের উপর অতগুলো কেবল কার চলছে ভয় একটুতো লাগবেই।দুর্ভাগ্যবশত তার ছিড়ে কেবল কার যদি নীছে পড়ে যায় তবে তখন বনের পশুর খাদ্য হতে হবে ভাবতে কেমন যেন শরীর হিমশীতল হয়ে যায়।।কারন এই ঘন জংগলে উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত দূরুহ ব্যাপার।Cable Car এ যত উপরে উঠি ততই আকাশ যেন হাতের মুঠোয় এসে যায়।কাছাকাছি পৌঁছলে মেঘের হাতছানি।এভাবে মেঘ ভেদ করে Cable Car উপরের দিকে উঠতে থাকে।নির্দিষ্ট সময়ে আমরা নিরাপদে Genting Highland পৌঁছে গেলাম।

রাতারাতি কোটিপতি হবার হাতছানি এই Genting Highland:-
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

সচরাচর সবাই Genting Highland পৌছে বাহিরে বেরিয়ে পড়ে সবকিছু দেখার জন্যে।এখানে বেশ কয়েকটি পাঁচ তারকা হোটেল ছাড়াও ৩/৪ ষ্টার হোটেল আছে যেখানে পর্যটকরা রাত যাপন করে প্রকৃতির অপরুপ শোভা উপভোগ করে ।এছাড়া এখানে বিশ্বের সবচেয়ে দামী গাড়ী যেমন Porsche,Ferrari ইত্যাদির প্রদর্শনী হয়ে থাকে।এ ছাড়া আরো আছে Theme Park।বাচ্চাদের খেলার চমৎকার আয়োজন ।আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুরো পরিবেশটারই রুপ বদলে দেয়া হযেছে।আর এই Genting Highland পুরোটাই লিজ দেয়া আছে চীনাদের হাতে। তাদের ব্যবস্তাপনায় কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে এই পুরা Genting Highland কে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলা হয়েছে।

আমরাও একটু বাহিরে ঘুরে আবার ঢুকলাম ভিতরে কি আছে দেখার জন্য।বিশাল এক দরজা দিয়ে ঢুকতে সিকিউরিটি ID Card চাইলে আমরা জানতে চাই কিসের ID।তখন সিকিউরিটি বলে এটা একটা Special ID ।যেখানে নির্দিষ্ট মেম্বারস ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারেনা।পরে জেনেছি এটা সিনিয়র Gamblers (জুয়া)ক্লাব।
অগত্যা আমরা বিকল্প দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পরলাম।ঢুকতে উপরে লেখা ইংরেজীতে
“Malaysian Muslims Are Not Allowed” চোখে পড়ল।যেহেতু আমরা বিদেশী তাই মুসলিম হলেও আমাদের ঢুকতে তেমন বেগ পেতে হলোনা।ভিতরে ঢুকে যে দৃশ্য চোখে পড়ল এক কথায় অবিশ্বাস্য।এত বড় Casino (জুয়া খেলার আসর) আমি কখনো চোখে দেখিনি।হলিউড ছবিতে যা দেখেছি কিন্তু বাস্তবে এত বিশাল পরিসরে যে জুয়া খলার আয়োজন হতে পারে তা আমার কল্পনার বাইরে।

আমরা সারা প্রান্তর ঘুরে দেখেছি এই Casino তে শত শত জুয়ার আসর পরিচালনা করছে ১৮/২০ বছরের সব চীনা তরুন তরুনী।জুয়া খেলার এত প্রকারভেদ না দেখলে বুঝানো সম্ভব নয়।পুরো পরিসরটা এমনভাবে সাজানো যেন চোখ ধাঁধিয়ে যায়।ফটো তোলা নিষেধ তাই সরাসরি কোন ছবি তুলতে পারিনি।আমার ধারনা পাচঁ শতাধীক জুয়ার ঘর বসেছে আর প্রতিটি জুয়ায় ২০ থেকে ৫০ জন লোক খেলায় অংশ নিচ্ছে। যারা খেলছে তারা বেশীর ভাগই চীন,জাপান ,ফিলিপাইন,কোরিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে আগত পর্যটকরা যাদের বেশীর ভাগ বয়স্ক পুরুষ মহিলা।তারা সরাসরি ঢুকে খেলায় বসে যায়।এখানে ৫ রিংগিত থেকে শুরু করে ১০০০ রিংগিতের দান খেলা যায়।আর সিনিয়র Gamblers ক্লাবে হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক রিংগিতের দান খেলা যায়।

কৌতুহলবশত: আমার সফর সংগী মান্নান একটি খেলায় উৎসুক হয়ে ১০ রিংগিত দিয়ে খেলা শুরু করে। আমরা ব্যাপারটা উপভোগ করছি। ।প্রথম ২/১ বার দানে হেরে গেলেও এক পর্য়ায়ে মান্নান লাভ করতে থাকে।এভাবে ১ ঘন্টা খেলার পর দেখা যায় মান্নান ৬০০ রিংগিত মানে বাংলাদেশের প্রায় ১২৫০০/- টাকা লাভ করে ফেলেছে।এরপর তাকে আমরা আর খেলতে দিই নাই।কারন আমাদের হাতে আর সময় ছিলনা।যেহেতু ফিরতি Ticket আমরা আগেই কেটে রেখেছি তাই নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে।

আমাদের এই অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় এভাবে এখানে খেলতে গিয়ে রাতারাতি মিলিয়ন রিংগিত আয় করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।আবার অনেকে নি:স্ব হয়ে পথের ভিখারী ও হয়ে যাচ্ছে।আর এটা যেহেতু Malaysian Government কর্তৃক স্বীকৃত তাই এর আয় বৈধ আর এজন্য বেশী টাকা যারা আয় করেন প্রয়োজনে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হয় যাতে টাকা নিজ একাউন্টে কিংবা নিজ দেশে হস্তান্তর করা যায়।

শুনেছি বাংলাদেশ থেকে অনেকে নাকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে নিয়মিত আসেন।তাদের কারো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলেও বেশীর ভাগই নি:স্ব হয়ে ফিরছেন।

বি:দ্র: একটি কথা আমাদের মনে রাখা উচিত ইসলাম ধর্মে জুয়া খেলাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।+9141Hasina Akter, Mohammed Washim Reza and 139 others4 Comments1 ShareLikeCommentShare

Comments
Mohammed Harun-or Rashid

Write a comment...

[/pl_text]
[/pl_col]
[/pl_row]

জিয়াউর রহমান- একটি নাম,একটি অধ্যায়:-

জিয়াউর রহমান- একটি নাম,একটি অধ্যায়:-
“”””””””””””””””””””””””””””””””
চলুন তার জীবনের কিছু খন্ড চিত্র দেখে আসি:-

আজ ৩০ মে,২০২০ শনিবার ।
বীর-মুক্তিযাদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউর রহমানের (বীরউত্তম)
৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী।
আজকের এইদিনে বাংলাদেশের ইতিহাসের ক্ষনজন্মা এই পুরুষের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

জাতি সংঘে ভাষণ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

সংক্ষেপে মরহুমের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি আলোকপাত করতে চাই যা দিয়ে আমরা তার বিচক্ষণতা আর দেশপ্রেমের গভীরতা সম্পর্কে একটা ধারনা পেতে পারি।

# জাতির দু:সময়ে সামনের কাতারে জিয়া :-
“””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""""
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সম্মুখ সমরে সরাসরি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বলেছিলেন “আমি মেজর জিয়া বলছি........বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করছি” ।যে ঘোষনা নি:সন্দেহে সেদিন দিশেহারা জাতিকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছিল।
চট্রগ্রামের ষোলশহর ২নং গেইটে “বিপ্লব উদ্যান” নামে এখনো তার নামাংকিত
ফলক আছে ।ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যেখান থেকে তিনি তার সংগীয় ফোর্সেদের নিয়ে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ করে বলেছিলেন “We-revolt”

# মুক্তিযুদ্ধে জেড-ফোর্স গঠন:-
“””””””””””””””””””””"""""""""
স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১ জনকে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়েছিল।জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তার নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে জেড-ফোর্স গঠন করা হয়েছিল এবং তিনি অকুতোভয় বীর সৈনিক হিসাবে সম্মুখ সমরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।পরবর্তীতে তার স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

# দেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন:-
“””””””””””””””””””””””””””””"""""""""""""
দেশের এক চরম ক্রান্তি লগ্নে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করে মাত্র ৪ বছরে তিনি সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক নেতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত করতে সক্ষম হন।উদাহরণ .....

১// ১৯৭৯-৮০ সাল দীর্ঘদিনের ইরান-ইরাকের যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে চরম এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।তৃতীয় বিশ্বের একজন উদীয়মান নেতা হিসাবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত জিয়াউর রহমান সেদিন ইরান-ইরাক যুদ্ধে মধ্যস্হতাকারী হিসাবে ভূমিকা রেখে সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

২// সার্ক গঠন-এক দূরদর্শী চিন্তা:-
আন্চলিক সহযোগীতার মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারে সেই ধারনা তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে সার্ক(South Asian Reginal Co-operation) গঠনের স্বপ্ন সেদিন সফল হয়েছিল।যার সদস্য রাষ্ট্র হলো ভারত,পাকিস্তান,নেপাল,শ্রীলংকা,মালদ্বীপ,আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ।এজন্য তাকে সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা বলা হয়।

৩/ / আরাফাতের ময়দান-জিয়া ট্রি:-
প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমন্ত্রিত হয়ে সৌদি বাদশাহ ফয়সালের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি জানতে চেয়ে ছিলেন বাংলাদেশের জন্য তিনি কি চান।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেদিন বলেছিলেন আমি কোন আর্থিক অনুদান চাই না।আমাদের দেশে অনেক কর্মক্ষম মানুষ আছেন তাদেরকে আপনার দেশে চাকরী দেন সেটাই হবে আমার মুখ্য পাওনা।সেদিন থেকে সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বাংলাদেশীদের জন্য সৌদি আরবের দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।যার ফলশ্রুতিতে অন্তত ২৫ লক্ষ বাংলাদেশী সৌদি আরবে যাবার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যাবার সময় বাংলাদেশ থেকে জাহাজ ভর্তি মাটি আর নিম গাছ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদী বাদশাহকে উপহার দেয়ার জন্য।সেদিনের সেই উপহার বাদশাহ ফয়সাল খুব আগ্রহ ভরে গ্রহন করেছিলেন।আরাফাতের ময়দানে মরুভূমির হাজারো নিম গাছের সারি ডাল-ফালা মেলে হজ্বের সময় হাজিদের পরম শান্তির বাতাস ছড়িয়ে দেয় সে গাছ সৌদিদের কাছে জিয়া-ট্রি হিসাবে সমধিক পরিচিত।
এজন্য সৌদিয়াবাসী জিয়াউর রহমানকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সহিত এখনও স্মরন করেন।

# নির্ভীক দেশপ্রেমিক এবং নির্লোভ জিয়া:-
“”””””””””””””””””””””””””””””””"""""""""
অকৃত্রিম দেশপ্রেম ছিল জিয়াউর রহমানের ।দেশে খাদ্যাভাব মোচনের জন্য তিনি অনাবাদী জমিতে ফসল উৎপাদনের উপর সর্বাধিক গুরত্বারোপ করেছিলেন।এজন্য তিনি সারাদেশে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন এবং খাল খনন কর্মসূচীর মাধ্যমে এক বিপ্লব সাধন করে ছিলেন যার ফলশ্রতিতে দেশ খুব অল্প সময়ের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
এক সময়ে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিন্জারের দেয়া বাংলাদেশেকে সেই “তলাবিহীন জুড়ি”থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন যা ছিল বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়!

তিনি ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী।একবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্টান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভোজ সভার আয়োজন করেছিলেন।খেতে বসে তিনি দেখলেন নানা পদের খাবার টেবিল ভর্তি।তিনি তখন ঐ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এ সব কে আয়োজন করেছেন ।ঐ কর্মকর্তা আগ্রহ ভরে বলেছিলেন আমরা আয়োজন করেছি।তখন প্রেসিডেন্ট বললেন এই টাকাগুলো কি আপনার বাবার? তখন বেচারার চেহারা .....এভাবে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ব্যায়কে সব সময় নিরৎসাহিত করেছেন।

#কুয়াইশ হাইস্কুলে জিয়াউর রহমান:-
“”””””””””””””””””””””””””””
সম্ভবত সালটা ১৯৭৯/৮০ হতে পারে।একদিন জিয়াউর রহমান সড়ক পথে কাপ্তাই যাবার পথে কুয়াইশ বুড়িশ্চর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুধারে প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাড়িয়ে আছে।
সামনে স্কাউটদের একটি দল প্রেসিড্ন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করবে।যদিও বা এটা কোন সরকারী সিডিউল প্রোগ্রাম ছিলনা তথাপি যাবার পথে কুয়াইশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্টের নজর কাড়তে সক্ষম হন।
সেখানে আমিও দাড়িয়ে আছি প্রেসিডেন্টকে একনজর দেখার জন্য।তিনি গাড়ী থেকে নেমে প্রথমে স্কাউটদের সালামের জবাব দেন ডান হাতে স্যালিউট গ্রহন করে বাম হাত এগিয়ে দেন করমর্দনের জন্য।এ প্রথম দেশের একজন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি কাছ থেকে দেখলাম।
এরপর তিনি নির্দ্ধিধায় কুয়াইশ স্কুলের মেইন গেট দিয়ে প্রায় ১৫/২০ কদম এগিয়ে ছিলেন।পেছন থেকে প্রটোকল এসে তাকে থামিয়ে দেন।এরপর তিনি আবার গাড়ীর দিকে ফিরে যান।কারন ভিভিআইপিরা কোথাও যাবার আগে সেখানে রেকী করতে হয়।না হয় প্রটোকল যাবার অনুমতি দেন না।

# কুয়াইশ কলেজ মাঠে জিয়াউর রহমান:-
“””””””””””””””””””””””””””””””
সম্ভবত ১৯৮০ সাল ।কুয়াইশ কলেজ মাঠে গ্রাম সরকার সম্মেলন হয়েছিল।চট্রগ্রাম বিভাগের সকল গ্রামের সরকার প্রধানরা জড়ো হয়েছিলেন সেই সম্মেলনে।গ্রাম সরকার ছিল জিয়াউর রহমানের একটি নতুন কনসেপ্ট।সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটি গ্রামে সমাজের নেৃতৃস্হানীয় ব্যাক্তির মধ্য থেকে একজনকে গ্রাম সরকার প্রধান করে তাহার নেতৃত্বে প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের রুপরেখা প্রনয়ন করেছিলেন।

কুয়াইশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিনে খোলা জমিতে হেলিপ্যাড নির্মিত হয়েছিল।সেখানে হেলিকপ্টারে করে তিনি অবতরন করেছিলেন।গ্রাম সরকার সম্মেলনে আমার মরহুম পিতার হাত ধরে আমিও প্রবেশ করেছিলাম।সেখান থেকে দ্বিতীয়বার জিয়াউর রহমানকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।দেখে মনে হলে খুবই সাধারন একজন রাষ্ট্রনায়ক যিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন।

#বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান:-
“””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""
১৯৭৪ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সকল দল বিলুপ্ত করে তৎকালীন সরকার এক দলীয় শাসন ব্যবস্হা কায়েম করেন।অর্থাৎ বাংলাদেশে তখন একটি মাত্র দলছিল আর সেটা হল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ সংক্ষেপে বাকশাল।
জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাকশাল বিলুপ্ত করে স্বাধীন মত প্রকাশের পথ উম্মুক্ত করে সকলকে দল গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।আর এতেই গনতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছিল।যদিও বা সমালোচনাকারীরা জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের সৃষ্টি বলে তাকে খাটো করতে চান ।কিন্তু এক্ষেত্রে কবির ভাষায় আমরা বলতে পারি “জন্ম-হোক যথা-তথা, কর্ম-হোক ভাল”

জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ:-
“”””””””””””””””””””””””””””””””"""""""""""""""
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ জিয়াউর রহমানের অসাধারন এক দূর-দর্শী চিন্ত ধারা।এর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিককে এক কাতারে সামিল করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন।
নি:সন্দেহে বাংলাদেশে বসবাসকারী জনসংখ্যার সিংহ ভাগ আমরা বাংলায় কথা বলি।সে হিসাবে আমরা বাংগালী।কিন্তু বাংলা ভাষা-ভাষী ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কিছু জনগোষ্টী আছে তাদের পরিচয় কি হবে?
যেমন -চাকমা,মারমা,মোরং সহ আরো কিছু জনগোষ্টী আছে যারা জন্ম-সুত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।তাদেরকেও যদি আমরা বাংগালি বলে তাহলে তাদের আত্ম-পরিচয় কি থাকবে? মূলত এই ধারনা থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি।অর্থাৎ বাংলাদেশে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশী হিসাবে পরিচয় লাভ করবে।এর মাধ্যমে দেশের ঐক্যকে সুদৃঢ় করা হয়েছে।

মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যু বরন করেন।একজন অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক রাষ্ট্র নায়ককে আমরা অসময়ে হারালাম।
যদিওবা বর্তমান সময়ে সর্বক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে তথাপি বলব বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ইতিহাসের রাখাল রাজা মানুষের অন্তরেই থাকবেন চিরকাল।

মহান আল্লার কাছে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ।আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।


“””””””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

151Hasina Akter, Mohammed Washim Reza and 149 others15 Comments17 SharesLikeCommentShare

Comments
  • Imon HossainDelete or hide this1
  • MJ Emon Chy এম জা ইমন চৌধুরী বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরDelete or hide this1
  • Ashraful Anam Khan কোটি মানুষের হিয়া
    তুমি চির জাগ্রত
    তুমি জনতার জিয়া।…See MoreDelete or hide this1
  • Rashed NoyonDelete or hide this1
  • Mohammed Nurun Nabi Chowdhury অসাধারণ লিখেছেন হারুন ভাই। এভাবে লিখবেন। আল্লাহ আপনার সহায় হউন। দোয়া ও শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।1Delete or hide this
  • Didarul Islam Didar আল্লাহ পাক এই মহান প্রিয় নেতাকে জান্নাত বাসী করোক। আমিন।1Delete or hide this
  • Mohd Salimuddin নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় সকল সত্য তুলে ধরেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ হারুন ভাই, ভাল থাকুন সুস্ত থাকুন।1Delete or hide this
  • Shaiful Alam Tipu প্রিয়নেতা প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।1Delete or hide this
  • Mojaher Maher ইতিহাস কাউকে সহজে ক্ষমা করে না।জিয়ার ব্যপারেও হয়তো এমনটা।Delete or hide this
  • H.M. Nurul HudaDelete or hide this1
  • Mostafa Sarwar হারুন ভাই, গতকালের প্রথম আলোটা সংগ্রহে রাখুন। চমতকার গঠনমূলক একটি কলাম আছে যাতে অনেক অজানা তথ্য আছে শহীদ জিয়ার শাসনকাল নিয়ে।1Delete or hide this
  • Md Hasan MonowarDelete or hide this1
  • Anwar Hossain অসাধারণ একটি লেখা, পড়ে খুবই ভালো লেগেছে1Delete or hide this
  • Mohammed Salim গভীর শ্রদ্ধার সাথে সরন করছি Ganatantra foberta Shahid president jio Raman ke1Delete or hide this
  • Shoja Uddin আমিন।1Delete or hide this
Mohammed Harun-or Rashid

Write a comment...

একুশের নিবেদন

একুশের নিবেদনঃ-

******************************

শহীদ মিনারের ছবি

এখন রাত ১১ টা।
একটু পরে শুরু হবে ২১ শে ফেব্রুয়ারী।
রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগন ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন।
ঐতিহাসিক এ ভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।

একটি বিষয় অনেকের কাছে এখনো অজানা যে
২১ শে ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে।
একদল বাংগালীর নিরলস পরিশ্রম আর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফসল হিসাবে জাতীসংঘ থেকে এ স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছে।

ভাষার জন্য যে মানুষ জীবন দিতে পারে সেটা প্রমান করেছে বাংগালীরা।
তাই আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখনই এ দিবসটি পালিত হয় সেখানে এই ভাষা দিবসের পটভুমি আলোচিত হয়।এতে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ফুটে উঠে।

তবে একথা বলতেই হয় মনের আবেগ প্রকাশ করার জন্য মাতৃ ভাষার কোন বিকল্প নেই।
তাই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার জনগোষ্ঠির কাছে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন এক অনুপ্রেরনার নাম।

যুগযুগ ধরে এ অনুপ্রেরনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাবার শক্তি যোগাবে নিঃসন্দেহে।

তবে একটি কথা না বললেই নয় অনেকে এ ভাষা দিবস আসলে কেমন যেন আবেগী হয়ে যান।তারা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলতে গিয়ে ইংরেজী ভাষাকে বর্জনের কথা বলেন যা মোটেই সমীচিন নয়। কারন ইংরেজী হলো আন্তর্জাতিক ভাষা।যেটা আমাদের তরুন প্রজন্মের আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরী।

বর্তমানে ইনফরমেশন টেকনোলজির এ যুগে ইংরেজীকে আরো বেশী করে আয়ত্ত করতে হবে।
অন্যথায় আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো।

আমরা দেখেছি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকে তারা কম লেখাপড়া করেও ইংরেজীতে অনর্গল পড়তে, লিখতে ও বলতে পারতেন।কিন্তু দেখা গেছে বর্তমানে বিএ,এম এ পাশ করেও অনেকে ভাল করে ইংরেজীতে একটি চিঠি লিখতে গলদগর্ম হয়ে পড়েন।
এর একটি কারন হিসাবে আমি বলব এস,এস,সির পরবর্তী শ্রেনী গুলোতে ইংরেজী ভাষাকে বাধ্যতামুলক না করা।এতে শিক্ষার্থীরা ইংরেজী ভাষাকে তেমন গুরুত্ত দেন না।ফলশ্রুতিতে ভাল ইংরেজী জানার অভাবে বিশ্বে আমরা তাল মেলাতে পারছিনা।প্রতিযোগীতায় আমরা পিছিয়ে থাকি।
আজকের এই মহান দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রখেই বলব আবেগ নয় বাস্তবতাকে মেনে নিন।
মাতৃ ভাষাকে সঠিকভাবে অনুশীলন করুন একই সাথে ইংরেজী ভাষাকেও সমান গুরুত্ত দিন।আগামীর পথ চলা সহজ করুন।

আইনের শাসন একটি উদাহরনঃ

আইনের শাসন একটি উদাহরনঃ
==========================

সম্প্রতি এক বাংলাদেশিকে হত্য়ার অভিযোগে ২ মালয়েশিয় পুলিশ কে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে মালেশিয়ার একটি আদালত।আইনের শাসন আছে বলে সে দেশে এ রায় প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।এখানে আইন সবার জন্য সমান। রায়ে প্রবাসিরা সতুষ্ট।
জানা যায় থানায় ধরে নিয়ে বন্ধী অবস্তায় পুলিশের হাতে থাকা মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করার ফলে তাহার মৃত্যু হয়।
প্রথমে পুলিশ তা অস্বীকার করে কিন্তু ভিডিও ফুটেজে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে।

মালয়শিয়া পুলিশের একটি ইমেজ ১

একটি বিষয় এখানে লক্ষ্যনীয় সরকারি প্রশাসন বিচার প্র্রক্রিয়ায় কোনরুপ হস্তক্ষেপ করে নাই।একটি স্বছ্ছ প্রক্রিয়ায় এর বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।ফলে প্রবাসী এবং পর্যটকেরা নিজেকে অনেকটা নিরাপদ মনে করছে।


তাছাড়া সে দেশের নাগরিকরা দল মত নির্বিশেষে সবাই এ আইনের ফলে নিজেকে সুরক্ষিত বলে মনে করে।সেজন্য আজ মালয়শিয়া উন্নতির চরম শিখরে পৌছে গেছে।আজ মালায়শিয়া বিশ্বের কাছে একটি উদাহরন।পক্ষান্তরে বাংলাদেশের বিচারিক আদালতের যে দুরাবস্তা তা ভুক্তভোগী মাত্রই অবগত আছেন।আইনের শাসন এখানে সম্পুর্ন অনুপস্তিত।জনগন এখানে সম্পুর্ন জিম্মি হয়ে আছেন।প্রশাসন এখানে ক্ষমতাশীনদের নিয়ন্ত্রনে।বেপরোয়া পুলিশ।বিচারের বানি এখানে নির্বিত্তে কাঁদে।কারো যেন কিছুই করার নেই।

মালয়শিয়া পুলিশের একটি ইমেজ

কিন্তু এভাবে চলতে গিয়ে জনমনে যে গভীর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হছ্ছে সরকার কি একবার ও তা ভেবে দেখেনা?


জনগনের ঐক্য যদি সূদৃড় না হয় তাহলে টেকসই ঊন্নয়ন কি সম্ভব ?
সরকার যত দ্রত গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনে আঈনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------Posted 8th March 2017 by Mohammed Harun-or Rashid

সেতু-বন্ধন ক্লাব,বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিক,পল্লী মংগল সমিতি / স্মৃতির এলবাম থেকে:- “ক্লাবের সেকাল আর একাল”

সেতু-বন্ধন ক্লাব,বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিক,পল্লী মংগল সমিতি / স্মৃতির এলবাম থেকে:-
“ক্লাবের সেকাল আর একাল”

“”””””””””””””””””””””””””””””””

চট্রগ্রাম জেলাধীন হাটহাজারী উপজেলার সর্ব দক্ষিনে কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন কুয়াইশ ভরা-পুকুর এলাকা তথা দক্ষিন হাটহাজারীতে স্ব-মহিমায় দাড়িয়ে থেকে দীর্ঘদিন জন-কল্যানে আর মানব সেবায় কাজ করে এসেছে সেতু-বন্ধন ক্লাব।যদিওবা বর্তমানে ক্লাবের সেই জৌলুষ আর নেই। তথাপি অতীতচারী হয়ে কালের আবর্তে এই সেতু-বন্ধন ক্লাব সৃষ্টির পেছনের ইতিহাস এবং নেপথ্য কারিগরদের পরিচয় তুলে ধরে তাদের অবদান বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপস্হাপন করার লক্ষ্যে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ।যাদের অনেকেই আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।বর্তমান প্রজন্ম এই লেখাটিতে এলাকার সমাজ বিবর্তনের কিছুটা ধারনা পেতে পারে ।

পল্লী মংগল সমিতির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:-
“”””””””””””””””””””””””””””””"""""""""
এই সেতু-বন্ধন ক্লাব গঠিত হওয়ার পূর্বে স্বাধীনতা পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ১৯৭৩/৭৪ সালের দিকে এলাকার এক ঝাঁক উদ্যমী তরুনের নেতৃত্বে কুয়াইশ পল্লী মংগল সমিতি নামে সর্বপ্রথম একটি সমিতি গঠিত হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন - -
# মরহুম অধ্যাপক জামালুদ্দীন চৌং,
# আমার বড় ভাই মরহুম আলহাজ্ব ইউনুছ মিয়া,
# মরহুম মোহাম্মদ হারুন
(আফজল তালুকদার বাড়ীর মরহুম অলি আহমদের বড় ছেলে ।যিনি অল্প বয়সে দূরারোগ্য ক্যান্সারে মারা যান। তাকে হয়ত অনেকে ভুলে গেছেন।তিনি একজন সম্ভাবনাময়ী প্রতিশ্রুতিশীল সামাজিক ব্যাক্ত ছিলেন। )
# ড: জহুরুল আলম চৌং,
# মরহুম রফিক আহমদ মেম্বার,
# কবি নুর মোহাম্পদ চৌং প্রমূখ।

তাদের আন্তরিক প্রয়াস আর মানবিক দৃষ্টির কারনে পল্লী মংগল সমিতির অন্যতম প্রজেক্ট ছিল বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র।বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে প্রতিদিন রাতে বয়স্ক লোকদের শিক্ষা প্রদান করা হত।বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে ক্লাস নিতেন মরহুম অধ্যাপক জামালুদ্দীন চৌং,মরহুম মোহাম্মদ হারুন ,মরহুম আলহাজ্ব ইউনুছ মিয়া ,মরহুম ফারুক আহমদ চৌং ও আলাউদ্দীন চৌং।পল্লী মংগল সমিতি একই সাথে এলাকার মেধাবী অথচ গরীব ছাত্রদের বৃত্তি তথা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্হা গ্রহন এবং সেচ-প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে এলাকায় অনাবাদী জমিতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সহ সমাজের উন্নয়নে কল্যান মুখী কর্মকান্ড পরিচালিত করে।

সেতু-বন্ধন ক্লাবের নিয়মিত মিটিংয়ে সদস্যরা ।
বাম থেকে আলাউদ্দীন চৌং ,মরহুম ফারুক আহমদ চৌং,শওকত হোসেন ও হারুন-অর রশীদ প্রমুখ।
ছবি ১৯৮৫/৮৬।

সেতু-বন্ধনের যাত্রা শুরু যেভাবে: -
“””””””””””””””””””””””””""""""""
পরবর্তীতে তারই ধারাবাহিকতায় আরো জন-কল্যানমূখী কর্মসূচী গ্রহনের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালে সেতু-বন্ধন ক্লাব (সামাজিক,সাংস্কৃতিক,ক্রীড়া ও গণ-পাঠাগার) নামে আত্ম-প্রকাশ করে ।সেতু-বন্ধন ক্লাব সরকারী রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে এলাকায় বহুমুখী কর্মসূচী গ্রহন করে এতদ অন্চলে যুব সমাজে ব্যাপক গন জাগরন সৃষ্টিতে সক্ষম হয়। এসব কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ স্বত:স্ফূর্ত ভাবে সমর্থন ও সহযোগীতা করে গেছেন।

আমরা যেভাবে জড়িয়ে পড়ি:-
“””””””””””””””””””””""""""""
এই সময়ে আমরা স্কুলের ছাত্র অবস্হায় অগ্রজদের অনুপ্রেরনায় ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ি।
আমাদের অগ্রজ কিছু বড় ভাই সহ আমরা উদীয়মান এক ঝাঁক তরুন সেই ৯০ এর দশক থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে এলাকার সব তরুনকে এক কাতারে সামিল করতে পেরেছিলাম।আজ আমাদের মাঝে অনেকেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন।মহান আল্লার কাছে সেই সব সদস্য ভাইদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

উল্লেখযোগ্য অগ্রজদের মধ্যে
# শওকত হোসেন,
# মরহুম ফারুক আহমদ চৌধুরী,
# মরহুম মোহাম্মদ এয়াকুব(আমার মেঝ ভাই),
# আলাউদ্দীন চৌধুরী (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী),
# মোহাম্মদ আলাউদ্দীন,
# শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ,
# মরহুম সালাউদ্দিন চৌধুরী,
# মরহুম আব্দুল হামিদ চৌধুরী

( উল্লেখিত সবাই সেতু-বন্ধন ক্লাবের ফাউন্ডার মেম্বার)

ক্লাবের মিটিংয়ে অংশ গ্রহনকারী ডান থেকে মরহুম সেকান্দর আলী বাদশা,নাছের উদ্দীন চৌং,শওকত হোসেন,হারুন-অর রশীদ ,আলাউদ্দীন চৌং,আবু শাহাদাত(দাঁড়ানো),আনোয়ার হোসেন ,মরহুম জাহাংগীর আলম প্রমুখ। ছবি ১৯৮৬/৮৭।

প্রমুখ ভাইদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুন হিসাবে আমি
# মো:হারুন-অর রশীদ,
# এস,এম,নাছের উদ্দীন চৌং,
# মরহুম সিকান্দর আলী বাদশা,
# মরহুম জাহাংগীর আলম
(আমার মামাত ভাই),

প্রমুখ একজোট হয়ে সংগঠনের কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখি।আমাদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের মধ্যে ক্রমান্বয়ে
# মোহাম্মদ ইউছুফ্, #মোজাম্মেল হোসেন,
# মোহাম্মদ উল্লাহ,# এয়াকুব হোসেন,
# আবু শাহাদাত,# জাহেদ জলিল বাবু,
# নুর খান, #মোহাম্মদ কাসেমগীর ,
# আনোয়ার হোসেন,# জসিম উদ্দীন তালুকদার,
# সফিকুল ইসলাম জুনু,# এয়াছিন বেলাল,
# খোরশেদ আলম,# শাহজাহান তালুকদার,
# ছরোয়ার আলম ভোলা,#মোহাম্মদ ফরিদ,
# মোজাম্মেল হক ডায়মন্ড,# আকবর আলী,
# আবদুস ছবুর, #মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ ,
#মরহুম মোহাম্মদ ইছমাইল,# আবু মনছুর ,
# জসিম উদ্দীন,# আবুল কাসেম,# ইমাম হোসেন ইমন

প্রমুখদের সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত করে আমরা দীর্ঘদিন একজোট হয়ে নিজেদের উজাড় করে সময় দিয়েছি,মানবতার কল্যানে কাজ করেছি যা বর্তমান সময়ে চিন্তা করা যায়না।
উল্লেখিত ব্যাক্তিবর্গ ছাড়াও আরো কিছু ব্যাক্তির মধ্যে
# নুরুল আলম লেদু,# মরহুম আবদুছ ছবুর মুনসি,
# মরহুম ফজল আহমদ(বাচা মিস্ত্রী)
প্রমুখ সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সহযোগীতা করে গেছেন।

/**বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সেতু-বন্ধন ক্লাবের একটি সুন্দর এবং শক্তিশালী সংবিধান ছিল ।এটি রচনা করেছিলেন মরহুম অধ্যাপক জামালুদ্দীন চৌধুরী।তিনি ক্লাবের ফাউন্ডার মেম্বার ছিলেন এবং সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।**/

সেতু-বন্ধন ক্লাবের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টানে বাম থেকে আলাউদ্দীন চৌং ,শওকত হোসেন ,এস,এম,নাছের উদ্দীন চৌং,হারুন-অর রশীদ ।পাশে ভাতিজি নাহিদ ফারজানা(ছোট কালে ) ।ছবি ১৯৮৫/৮৬


সেতু-বন্ধন ক্লাব পরিচালনায় উপদেষ্টা কমিটি : -
“””””””””””””””””””””””””””””””””"""""""""""""
সংগঠনের পরিচালনা কমিটিকে বুদ্ধি-পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ সব সময় সক্রিয় ছিল।
১৯৮৪-৮৫ সালে সেতু-বন্ধন ক্লাবের এরকম একটি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন-
# ড: জহুরুল আলম চৌধুরী
# মরহুম অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম কুতুবী
# মরহুম কামাল উদ্দীন আহমদ চেয়ারম্যান
# ডা: মোহাম্মদ ইসহাক
# মরহুম মো: ইউনুছ মিয়া
# মরহুম অধ্যাপক জামালুদ্দীন চৌধুরী
# ডা: আব্দুল করিম চৌধুরী

এই সংগঠন কিন্তু রাতারাতি গড়ে উঠেনি।দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এলাকার মুরুব্বিদের মন যুগিয়ে তবেই এই সংগঠন একটি স্হির এবং নির্ভরযোগ্য সংগঠন হিসাবে মানুষের অন্তরে স্হান পেয়েছিল।কারন তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ধারনা ছিল ক্লাব মানে আড্ডা,ক্লাব মানে অসৎ সংগের সাথে বসবাস।সেই প্রচলিত ধারনা থেকে সেতু-বন্ধন বেরিয় আসতে পেরেছিল নি:সন্দেহে।

সেতু-বন্ধনের আনন্দ ভ্রমনে সামনের সারিতে গাড়ীতে বসা হারুন-অর রশীদ,মরহুম সেকান্দর আলী বাদশা,পেছনের সারিতে মরহুম জাহাংগীর আলম,নাছের উদ্দীন চৌং প্রমুখ।
ছবি ১৯৮৭/৮৮।

দীর্ঘদিন এই সেতু-বন্ধনের সভাপতি/সাধারন-সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিজেকে উজার করে দিলেও লেখা-পড়ায় কখনো ফাঁকি দিই নাই।চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়ি।আমি বলতে পারি রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সেতু-বন্ধনের অভিজ্ঞতা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচী নিয়ে সমগ্র চট্রগ্রাম জেলার বিভিন্ন কলেজ এবং উপজেলা পর্যায়ে অনেক সভা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।সাংগঠনিক বিষয়ে সেতু-বন্ধন ক্লাব থেকেই আমি জ্ঞান লাভ করেছি।সে সময় ক্লাবে নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি বক্তব্য কিভাবে দিতে হয়,নিয়ম শৃংখলা মেনে কিভাবে সংগঠন পরিচালনা করতে হয়,কিভাবে অনুষ্টান উপস্হাপনা করতে হয়,মানুষকে জনহিতকর কর্মকান্ডে কিভাবে উদ্ভুদ্ধ করতে হয় ,বড়দের কিভাবে সম্মান দিতে হয় তার শিক্ষা এখান থেকেই পেয়েছি।তাই যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই আমার অনুজদের উদ্দেশ্যে সব সময় সেতু-বন্ধনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করেছি।

সেতু-বন্ধন ক্লাবের উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মসূচী:-
“””””””””””””””””””””””””""""""""""""""""""""""
# নিয়মিত দুস্হ ও অসহায় রোগীদের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান।
# সকল জাতীয় দিবসে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান,সাহিত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন ।
# বিজয়ী প্রতিযোগীদের পুরস্কার বিতরন ।
# আলোচনা সভা ছিল নিয়মিত।সমাজের গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি বর্গের উপস্হিতিতে ক্লাবের সদস্যরা
আলোচনায় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পেতেন।
#প্রতি বছর নিয়মিত আনন্দ ভ্রমনের আয়োজন করা।
#নিয়মিত দেয়াল পত্রিকা ও স্মরণিকা প্রকাশ।এতে অনেকে নিয়মিত কবিতা আর কাব্য রচনা করতেন।
# জেলার বিভিন্ন স্হানে ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বা টূর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ গ্রহন ।
# সামাজিক বিচার কার্য্য পরিচালনা।
# মৎস্য চাষ প্রকল্প।
# সেলাই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে বিনামুল্যে সেলাই মেসিন দান।
# কন্যাদায় গ্রস্হ পিতাকে আর্থিক অনুদান প্রদান ।
# প্রতি বছর ঈদের দিন রাতে জমজমাট লটারী অনুষ্টান ইত্যাদি।

ক্লাবের বনভোজনে প্রীতিভোজ্ বাম থেকে হারুন-অর রশীদ,শওকত হোসেন,নাছের উদ্দীন চৌং,মরহুম জাহাংগীর আলম।(দাঁড়ানো)। ছবি ১৯৮৫/৮৬।

সাংস্কৃতিক ও নাট্য চর্চায় সেতু-বন্ধন:-
“”””””””””””””””””””””””””””""""
নাটক “ইন্টারভিউ” ছিল সেতু-বন্ধন ক্লাবের এক অনন্য পরিবেশনা।বিশিষ্ট নাট্যকার ও পরিচালক মরহুম ইসহাক নিজামীর পরিচালনায় সেই “ইন্টারভিউ” নাটকটি কুয়াইশ হাই স্কুলের মাঠে বড় সড় মন্চে পরিবেশন করা হয়।এলাকার শত শত নারী-পুরুষ সেদিনের সেই নাটকটি উপভোগ করেছিলেন।
নাটকের অন্যতম চরিত্র “চেরাগ আলী” বহুদিন মানুষের মুখে মুখে ছিল।সেই নাটকে ক্লাবের সদস্যরা অভিনয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলন।তাদের মধ্যে অন্যতম ## কবি আলাউদ্দীন চৌং(লন্ডন প্রবাসী),## আমার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন (আমেরিকা প্রবাসী),##সালেহ আহমদ(মধ্য-প্রাচ্য প্রবাসী),##এয়াকুব হোসেন (লন্ডন প্রবাসী), ##নুরুল আনোয়ার(আমেরিকা প্রবাসী) পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্হান করছেন।

সেতু -বন্ধন ক্লাবের পরিচালনায় বার্ষিক লটারী:-
“”””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""
এটি একটি চরম উদ্দীপনামূলক জমজমাট কর্মসূচী বলা যায়।এর মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা সেতু-বন্ধনের জনকল্যান মূলক কর্মসূচীতে ব্যায় করা হত।প্রতি বছর ঈদের দিন রাতে এ লটারীর ড্র অনুষ্টিত হত।এতদ অন্চলের আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলে এ দিনটির জন্য আগ্রহ ভরে অপেক্ষায় থাকত কখন লটারীর ড্র অনুষ্টিত হবে।
বিকাল হওয়ার পর থেকে দূর -দুরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসত এ লটারীর ড্র অনুষ্টান উপভোগ করার জন্য।সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে আসার সাথে সাথে লোকজনের ক্রমাগত ভীড়ে হাজারও জনতার উপস্হিতিতে এক সময় কাপ্তাই সড়কে ট্রাফিক জ্যাম লেগে যেত।এ এক উত্তেজনাকর মুহূর্ত সকলেই উপভোগ করতেন।

সেতু-বন্ধনের ব্যবস্হাপনায় ব্যাডমিন্টন টূর্নামেন্ট:-
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""""
তখনকার দিনে ব্যাডমিন্টন একটি খুবই জনপ্রিয় খেলা ছিল।সারাদেশে ব্যাডমিন্টন টূর্নামেন্টের আয়োজন হত।এরই ধারাবাহিকতায় সেতু-বন্ধন ক্লাবের উপদেষ্টা মরহুম আলহাজ্ব মো: ইউনুছ মিয়ার অর্থায়নে তারেক ওভারসীজ লি: এর পৃষ্টপোষকতায় এবং সেতু-বন্ধন ক্লাবের ব্যবস্হাপনায় একটি বিশাল ব্যাডমিন্টন টূর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।উক্ত টূর্নামেন্টে জাতীয় দলের চ্যাম্পিয়নরাও অংশ গ্রহন করেছিলেন।প্রায় মাসব্যাপী চলা এ টূর্নামেন্ট পরিচালনা করেছিলেন বুড়িশ্চরের কৃতি সন্তান মরহুম এস,এম,জাহাংগীর আলম (যিনি একজন নিবেদিত প্রান ক্রীড়ামোদী ও সমাজসেবক ছিলেন)।তাহার চমৎকার বাচনভংগী আর সাবলিল পরিচালনা পুরো টূর্নামেন্টকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলে।এলাকার ছেলে বুড়ো সবাই সেদিনের সেই টূর্নামেন্টর খেলা উপভোগ করতে প্রচুর ভীড় জমাতেন।

সংগঠন পরিচালনা করতে গিয়ে সব সদস্য নিয়মিত চাঁদা দিতেন।তখন স্হায়ী একটি ঘরের প্রয়োজন দেখা দিলে আমার মরহুম পিতা মো: ইব্রাহিম সওদাগর (প্রকাশ মুন্সি মিয়া সওদাগর) যিনি নিজেও আজীবন একজন সামাজিক এবং পরোপকারী ব্যাক্তি হিসাবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি বর্তমান জায়গাটিতে স্হায়ী ক্লাব ঘর নির্মাণের সুঁযোগ করে দেন ।যে জায়গাটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। এই ক্লাবের পাকা দালান নির্মানে সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।এলাকার নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে সহযোগীতা করে গেছেন।তবে প্রবাসী ভাইদের আর্থিক অনুদান ছিল সবচেয়ে বেশী।

কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমনে ক্লাবের অংশ গ্রহনকারী অন্যানের মাঝে বাম থেকে নাছের উদ্দীন চৌং,মো: নাছির,হারুন-অর রশীদ ,মরহুম জাহাংগীর আলম ও মামা ফরিদ প্রমুখ। ছবি ১৯৮৪/৮৫।


সম-সাময়িক পার্শ্ববর্তী এলাকার উল্লেখযোগ্য ক্লাব :-
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””"""""""""
উল্লেখিত সময়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকায়ও বেশ কিছু সামাজিক ,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন গড়ে উঠে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:-
# কুয়াইশ শহীদ স্মৃতি পাঠাগার,
# পশ্চিম কুয়াইশ দিশারী সংঘ,
# কুয়াইশ-চান্দগাঁও পল্লী উন্নয়ন সংঘ,
# শিকারপুরের মুক্ত-মানচিত্র ,
# বুড়িশ্চর জন-কল্যান সংঘ ,
# পাচঁলাইশ যুব সংঘ,
# দক্ষিন মাদার্শা মিতালী সংঘ অন্যতম।

বাথুয়ায় সাম্য-সাথী ও দূর্বার নামে দুটি ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হলেও বেশী দূর এগুতে পারেনি মতানৈক্যের কারনে।

৯০ এর দশকে উল্লেখিত ক্লাবগুলোর মাঝে সুপ্ত একটা প্রতিযোগীতা ছিল কে কত বেশী সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে।উঠতি তরুনদের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা ছিল।তবে অন্যান্য সংগঠনের চেয়ে সেতু-বন্ধন ক্লাব ছিল একটু ব্যতিক্রম।সেতু-বন্ধন ক্লাব সামাজিক ,ক্রীড়া আর সাংস্কৃতিক কর্মসূচীর পাশাপাশি জন-স্বাস্হ্যের কর্মসূচী নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে যায়।

ক্লাবে আড্ডারত বাম থেকে হারুন-অর রশীদ ,মরহুম জাহাংগীর আলম,নাছের উদ্দীন চৌং,জসীম উদ্দীন তালুকদার। ছবি ১৯৮৬/৮৭।


“বায়তুশ শেফা ফ্রি-ক্লিনিক”
আর্ত-মানবতার সেবায় অনন্য এক উদাহরণ :—

“”””””””””””””””””””””””””””””””"""""""""""""
“বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিক” নাম নিয়ে সেতু-বন্ধনের ব্যবস্হাপনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রোগ্রাম শুরুকরে সেতু-বন্ধন ক্লাব।
উক্ত জন-স্বাস্হ্য কর্মসূচীর প্রধান পৃষ্টপোষক হিসাবে এগিয়ে আসেন আমাদের কুয়াইশ ,ভরা-পুকুরের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ ইসহাক।(যিনি বর্তমানে অসুস্হ)।তিনি একটানা কয়েক বছর বিনামুল্য বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিকে রোগী দেখেন।
“বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিক”নামকরন করেন ডা: মোহাম্মদ ইসহাক স্বয়ং।পরবর্তীতে আমার ভাগ্নে বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলট্রাসনোলজিস্ট ডা: মাহবুবুর রহমান বাবলু সাহেবও এ কর্মসূচীতে এগিয়ে আসেন এবং তিনিও বেশ কয়েক বছর বিনামূল্যে রোগী দেখেন।উল্লেখিত কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য ডা: মোহাম্মদ ইসহাক ও ডা: মাহবুবুর রহমান বাবুলের অবদান অনস্বীকার্য।
“সেতু-বন্ধনের ব্যবস্হাপনায় বিনামূল্যে সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার এই ফ্রি ক্লিনিক চলত।শুধু ফ্রি চিকিৎসা নয় রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধও সরহরাহ করা হত।এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৭/৮ বছর সময়ে আনুমানিক কয়েক হাজার (প্রায় ২০ হাজাররর অধিক)রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়।এলাকার দানশীল ব্যক্তিবর্গের আর্থিক সহযোগীতায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হই।


কক্সবাজারে হিমছড়ি যাবার পথে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে মরহুম ফারুক আহমদ চৌং,মরহুম জুনু,নাছের চৌং,হারুন-অর রশীদ প্রমুখ। ছবি ১৯৮৫/৮৬।


বর্তমান অবস্হা এবং আমাদের প্রত্যাশা:-
“”””””””””””””””””””””””””””””""""""""""
এখনকার তরুনরা আগের মত সামাজিক সংগঠন মুখী নয়।রাজনীতি আর ইন্টারনেট তাদের সময় কেড়ে নিয়েছে।ক্লাব গুলো ইটের গাথুনীকে সাক্ষী রেখে এখনও ঠাঁই দাড়িয়ে আছে বটে কিন্তু ভিতরে কোন প্রান নেই।নেই সেই আগের সমাজ হিতকর গ্রহনযোগ্য কোন কর্মসূচী।এটা শুধু সেতু-বন্ধনের ক্ষেত্রে নয় পার্শবর্তী অন্যান্য ক্লাবের ও একই দশা।

বর্তমান পরিস্হিতি বিশ্লেষণ করে এটা উপলব্ধি করতে পারি সমাজে আমরা বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়েছি।মত-পথের পার্থক্য ,ব্যাক্তি আর গোষ্টী স্বার্থের কারনে আজকের সুয়োগ সন্ধানী তরুনরা বিপথগামী হয়ে পড়েছে।
এখন সমাজ গঠন মুলক কর্মসূচী নিয়ে তরুনরা এগিয়ে যেতে পারেনা।সবাই দল ভিত্তিক কর্মসূচীকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজেদের দলাদলিতে লিপ্ত থেকে নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ।এখন আমরা ব্যাক্তি পূজারী হয়ে প্রশংসার বাক্যবানে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করি। যেটা আমাদের সমাজের জন্য মোটেও শুভ-লক্ষন নয়।

এ অবস্থা থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে।
নচেৎ আমরা সমাজের এই অন্ধকার দিক থেকে মুক্তি পাব না।

চলমান বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস “কোভিড-১৯“যেভাবে আমাদের ভবিষ্যত স্বাভাবিক চলার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে ।এই অচলায়তন ভেংগে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প আপাত:ত নেই।তেমনিভাবে আমরা আশাবাদী আমাদের বর্তমান প্রজন্মের তরুনরাও একদিন সমাজের এই অচলায়তন ভেংগে বেরিয়ে আসবে একটি সুস্হ সমাজ গঠনে ।
তাঁরাই নেতৃত্ব দেবে সুন্দর দেশ গঠনে।


“””””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

”ফেসবুক থেকে সংগৃহীত কিছু মতামত নিম্নে সন্নিবিশিত করা হলঃ- ”””””””””””””””””””””””””””””””””""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

 Liked 337, 66 Comments,39 Shares.

Facebook Comments
  • Yakub Hossen ধন্যবাদ হারুন ভাই, সুন্দর ভাবে সব তুলে ধরার জন্য।
  •  
  • Shahadat Hossain পুরনো ছবি কালের সাককী হয়ে আ...
  •  
  • Mohammed Kashemgir হারুন ভাই আমার নাম কাসেমগীর।
  •  
  • মোঃ আবুল কাশেম হিরু মনে রাখার মতো ইতিহাস।
  •  
  • Iftee Babu সবই স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল।
  •  
  • Mukter Ahmed Prince ‌সেই আ‌গের স্মৃ‌তি, অ‌নেক সুন্দর ছিল পুরা‌নো দিন গুল।
  •  
  • Jashim Uddin Old is Gold back rounds become future and success,
  •  
  • Showkat Khan Thank্‌
  •  
  • Mahbubur Babul ডাক্তার হয়ে বায়তুশ শেফা ফ্রি ক্লিনিকে প্রায় ২০ হাজারের অধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারাটা আমার পরম সৌভাগ্য ৷
  •  
  • Robiul H Chowdhury
  •  
  • Osman Osan Old is gold ❤️
  •  
  • Nazim Hasan
  •  
  • Sk Ibrahim
  •  
  • Nurul Anwar অনেক পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন। জাহাঙ্গীর ভাই কখন মারা গেল ? কেমনে? সে সময় আমাদের সবারই অনেক আন্তরিক ছিল, নাসির ভাই দেখতে নায়কের মত ছিল। এখনো চোখে ঐ চেহারা গুলোই ভাসে। সেতুবন্ধন ক্লাব এর ইন্টারভিউ নাটকে আমার ফারুক চরিত্রের কথা এখনো মনে পড়ে। চেরাগ আলীর কথা মনে পড়লে তো হাসি আসে। মরহুম ইসহাক নিজামীর কত বকা খেয়েছি এই অভিনয়ের রিহার্সেল করতে গিয়ে। আহা যদি সে দিনগুলো ফিরে আসতো। সেতুবন্ধন ক্লাবের নিয়মিত সদস্য না হলেও নিজেকে প্রাণের সংগঠন বলে মনে হতো। তখন না আমাদের এলাকায় শহীদ স্মৃতি পাঠাগার এবং সেতুবন্ধন ক্লাব অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছিল। আজকে আমরা কেমন জানি হয়ে গিয়েছি, সবি কৃত্রিম। আপনার কথার গাথুনীতে সেটার বহিপ্রকাশ পেয়েছে। পুরনো স্মৃতিচারণ এর জন্য ধন্যবাদ হারুন ভাই।
  • সেতুবন্ধন তুমি দীর্ঘজীবী হও।
  •  
  •  
  • Md Ajat Md Ajat ধন্যবাদ।সেতু বন্দন ক্লাব নিয়ে অনেক অজানা ছিল। আজ জানলাম। সেই দিন গুলি অনেক মায়া মমতার ছিল সিনিয়রদেরকে জুনিয়রদদের সম্মান ছিল।
  •  
  • Mozammel Hoque হারুন ভাই,স্বাধীনের পর হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কুয়াইশ বুড়িশ্চরে সব সামাজিক সংগঠন আর্দশ সংগঠন হিসেবে পরিচিত,বলতে গেলে আমাদের বুড়িশ্চর জনকল্যাণ সংঘ হতে আমরাও কিভাবে সমাজে উন্নয়ন, পরিবেশকে আর্দশ পরিবেশ,বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সাংগঠনিক নিয়ম নীতি,এই শিক্ষাই পরবর্তীতে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সহজ করে দিয়ে ছিল তখনকার নেতৃবৃন্দকে। সেই অতীত এখন কল্পনা করা যায় না।আপনাকে ধন্যবাদ।
  •  
  • Mujib Rahman Onek onek dannybad apnake,
  •  
  • Kuarshed Alam আমরা ছোটবেলায় এ ক্লাবকে দেখেছি। যদিও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খুব বেশি অভিহিত ছিলাম না। পশ্চিম কুয়াইশে ও একটি ক্লাব ছিল এখন মনে হয় নেই এ ধরনের ক্লাব গুলি সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। এই ক্লাব গুলি একসময় সমাজে অবদান রাখত। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতো। এখন আবারও প্রয়োজন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় এ ধরনের ক্লাব গড়ে তোলা। তাহলে মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে যাবে।। সমাজের ছোট ছোট অনিয়ম গুলি দূর হয়ে যাবে।
    •  
  • Jane Alam Jitu হারুন ভাই আসসালামুয়ালাইকুম, যদি পারেন এইরকম করে রাজনীতি নিয়ে স্রিতিচারন করলে আমরা আমাদেরকে একটু চিনতে পারতাম।ধন্যবাদ।।
  •  
  • Sarwar Alam Kutubi মাশ্ আল্লাহ। ক্লাবের সদস্য হওয়ার চেয়ে আজকের লেখাটি অনেক বেশী মূল্য বহনকারী।
  •  
  • Md Rakibul Islam Fahim অনেক কিছুই জানা হলো সেতুবন্ধন ক্লাব সম্পর্কে।
    💝💝
    •  ·
  • Md Dowlat আমার প্রান প্রিয় রাজনৈতিক নেতা হারুন চেয়ারম্যান ভাইয়ের বিগত সময়ের পৃষটা উলটাইলে আমরা দেখতে পাবো,সমগ্র হাটহাজারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের সাথেই নিজেকে সর্বাধিক নিয়োজিত রেখেছেন।এককথায় মানব কল্যাণে নিবেদিতপ্রান। ওনাকে আল্লাহ পাক হায়াতে তৈয়বা দান করুক।আমিন।। দৌলত পশ্চিম বাথুয়া।)
  •  
  • Mostafa Sarwar হারুন ভাই চমতকার ভাবে তুলে ধরেছেন সেতু বন্ধনের জন্ম ইতিহাস ও ঐতিহ্য কিন্তু ক্লাবের যে প্রধান আকর্ষণ ছিল তা হয়তো ভুলে গেছেন। বার্ষিক লটারি ড্র! প্রতি ঈদের দিন সন্ধ্যায় হতো সে কাংখিত লটারি ড্র যার প্রস্তুতি চলতো মাস ব্যাপি প্রচার প্রচারণা ( মাইকিং, পোস্ট…See More
    •  
  • E Saiful Islam মাশাআল্লাহ বড় ভাই আপনারা প্রানের সংগঠন বিএনপি সোনালি দিনের স্বাক্ষী,,,সত্যি ভালো লাগে আপনাদের পুরনো দিনের সৃতি গুলো দেখতে 👌👌👌👌👌1Delete or hide this
    •  
  • Imon Hossain এক কথায় অসাধারণ লেখা, সেতুবন্ধনের কিছু সময়ে আমি আপনাদের সান্নিধ্যে পেয়ে, কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়ে, নিজেকে সৌভাগ্য বান মনে করছি।
    •  
  • Mohammed Ali খুবই সুন্দর উপস্থাপনা, কোন কল্পকাহিনী নয়, বাস্তব, আমাদের দেখা।
    •  
  • Mohammad Zahed অজানাকে জানার সৌভাগ্যটা হলো। এই ক্লাবের অতীত জানাটাই ছিলো অনেকদিনের কৌতূহল যা আজ জানা হলো।
    ধন্যবাদ আমার দেখা পরিচ্ছন্ন, অদম্য সাহসী এবং মেধাবী শিক্ষিত সাবেক চেয়ারম্যান জনাব Mohammed Harun-or Rashid,
  •  
  • Radyah Ibnat When I first saw these photos, I thought I was looking at Baba. I had to do a double take.😅😅
    •  
  • Anwar Hossain We looked so similar when we were younger, I thought the last photo was me?
  • Mohammed Harun-or Rashid replied  · 3 Replies
  • Sharif Uddin
  • M.A. Kayoom মাশা আল্লাহ্।
  • Mohammed Nasir Uddin
  •  
  • Mohammed Nasir Uddin Sreti kadai,
  • Sufi Naahean Naawaf Rami হারুন ভাই চমৎকার লাগছে আপনাকে।
  • চুল লম্বা রাখলে অনেক এখনো সুন্দর লাগবে1
  •  
  • J.A. Sunny I miss my dear father 💔
  • J.A. Sunny replied  · 2 Replies
  •  
  • Alauddin Chowdhury স্নেহভাজন হারুন ভাই ,
  • তোমার সুদক্ষ ও সুনিপুন হাতে
  • সেতু বন্ধন ক্লাবের অতীত ঐতিহ্য সম্বলিত সুদীর্ঘ ইতিহাস
  • তুলে ধরা -এ লেখাটি কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে
  • আগামী প্রজম্মের জন্য l
  • এ থেকে ধারণা নিয়ে আমাদের
  • মত নিরপেক্ষ ও সুন্দর মনোভাবী হয়ে তাঁরাও গ্রামের মানুষের কল্যানে কাজ করার সচেষ্ট হবে l
  • এ লেখাটি কষ্ট করে লিখে
  • সাবাইর নজরে আনার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ l
  • এ লেখাটির 100℅নিখুঁত হওয়ার জন্য একটি বাদ পড়া অংশ সংযোজন করলে ভালো হয় ,তা হলো সেতু বন্ধন ক্লাবের সংবিধান রচনাকারী প্রফেসর
  • জামালুদ্দিন চৌধুরীর অবদানের কথা l
  • ""''
  • ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটি থেকে
  •  
  • Mohammed Farid এই করোনা মহামারীর সময় সেতুবন্ধনের +এলাকাবাসীর মিলে যদি চিকিৎসা সেবা মুলক কিছু করা যায় ভালো হয়।
    •  
  • Naser Chowdhury i memorised 20 years back and especillay badsha and janahngir no more with us.
    i pray to Allah for their departed soul and go to heaven.
    all picture unbelievable and .and .
  • onec again thanks to share with us.
  • Naser…
    •  
  • Hmn Alam প্রিয় লিডার এগিয়ে যান1
  •  
Mohammed Harun-or Rashid

Write a comment...

Mohammed Harun-or Rashid

Write a comment...

“বিজয় দিবসে এখনো আমাদের প্রত্যাশা”

"বিজয় দিবসে এখনো আমাদের প্রত্যাশা" 

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পরেও আমাদের লিখতে হচ্ছে বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যাশা।কারন আকাংখা আর প্রাপ্তির ব্যবধান আজ আমাদের কাছে নতুন করে চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।যে জাতি যুদ্ধকরে নিজের মাতৃভূমি স্বাধীন করেছে, আজ সে জাতির সামনে স্বাধীনতা যেন ধীরে ধীরে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।


স্বাধীনতার অন্যতম স্তম্ভ হলো  গনতন্ত্র।গনতন্ত্র মানে পরমত সহিষ্নুতা আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা।আজ সে পথ রুদ্ধ।আঈনের শাসন গনতন্ত্রের চালিকা শক্তি।আঈন এখন আর নিজস্ব গতিতে চলেনা । ধীরে ধীরে আঈনের কাঠামোগুলো ভেংগে পড়ছে।
স্বাধীন দেশে সকলের সমান অধিকার।কিন্তু সে অধিকার আজ কাতারবন্দী।এভাবে চলতে চলতে সামনে আর বেশীদূর এগোনো যাবেনা।কারন শৃংখলিত জীবন কখনো স্বাধীন হতে পারেনা।

জাতীয় শহীদ মিনার

মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব /ভোটের অধিকার থেকে যখন মানুষ বন্চিত হয় এবং প্রশাসনের সহযোগীতায় যখন ভোটাধিকার হরন হয় তখন সেই সরকারের কাছে মানুষ আর কিইবা  প্রত্যাশা করতে পারে?

কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এখনও আমরা আশায় বুক বেধে আছি এদেশ আমাদের আকাংখিত সেই পথে নিয়ে যাবে যেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন থাকবে,গনতন্ত্রের অবাধ চর্চা হবে,মানুষ প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার পাবে,আঈন তার নিজস্ব গতিতে চলবে,কেউ অনাকাংখিত গুম/খুনের  শিকার হবেনা,বিরোধী মত প্রকাশের পথ উম্মুক্ত হবে,রাজনীতির নামে জনগনের সাথে ধোকাবাজি হবেনা,ছাত্ররা রাজনীতিবিদদের দাবার ঘুটি হবেনা।
************************************************************************

দালাল ধরার দিন শেষ,মাত্র ৫ মিনিটে করিয়ে নিন আপনার পাসপোর্ট: Radio Spark Community *************************************



দালাল ধরার দিন শেষ,মাত্র ৫ মিনিটে করিয়ে নিন আপনার পাসপোর্ট: Radio Spark Community
*************************************

হেডলাইনটা এমন ভাবে দিল যেন প্রকৃতই ৫ মিনিটে  Passport করে নেয়া যায়।প্রচুর লাইক ও পড়েছে।Radio Spark Community  এর এমন একটি পোস্ট আজ Facebook এ চোখে পড়ল যা মোটেই সত্য নয়।পরে English এ যা বর্ননা দিল সেখানে ১৫ আর ৩০ দিনের কথা বলা হলো।

অনলাইনে না হয় ফরম পূরন করা গেল কিন্তু জমা দেবার জন্য তো প্রার্থীকে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে,তার উপর তাকে Attestation  এর ব্যবস্তা করতে হবে।এর পরেও পাসপোর্ট জমা হবেনা।

কারন তখন অফিসার নানা ভূল ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন।আবার পরের দিন আসতে হবে। এভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে আপনাকে শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট ব্রোকারের স্মরনাপন্ন হতে হবে।যদি চাহিদামত টাকা দেন তো ভূল ভ্রান্তি সত্বেও আপনার পাসপোর্ট ঐদিনই জমা হয়ে যাবে।কারন শুনা যায় দিন শেষে প্রতি পাসপোর্টে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা মার্কা অনুযায়ী ব্রোকারকে  পাসপোর্ট  অফিসে দিতে হয় যার ভাগ ডাইরেক্টর থেকে শুরু করে অধস্তন কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন।

এছাড়াও ব্রোকারকে ওখান থেকে প্রতি পাসপোর্ট পিছু নির্দিষ্ট টাকা পুলিশকেও নাকি দিতে হয়, না হয় পাসপোর্ট কোনদিনই পাবেন না।কারন পুলিশ টাকা না পেলে রিপোর্ট  আটকিয়ে হয়রানী করে এটা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

পাসপোর্ট ব্রোকারকে স্তানীয় মাস্তানকেও নিয়মিত চাদা দিতে হয়।এসব করে পাসপোর্ট ব্রোকাররা তবেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
Radio Spark Community বর্ননা মতে পাসপোর্ট কোন দিনই এত সহজে হাতে আসবে না।এটাই নিয়মে পরিনত হয়েছে।

জনমনে প্রচলিত ধারনা প্রতিদিন এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার দূর্নীতি হয় যা Open Secret.
আমার বক্তব্যের দ্বিমত কেউ করতে চাইলে অনুরোধ করব পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে একবার ঘুরে আসার। ওখান থেকে প্রকৃত চিত্র আপনি পেয়ে যাবেন।

মাঝে মাঝে অবশ্য RAB বা গোয়েন্দা সংস্তার কিছু কিছু অভিযানের কথা আমরা শুনি কিন্তু   Radical কোন পরিবর্তন আমরা দেখিনা।

তাই অনুরোধ জানাব এভাবে নিজের লেখার খাটতি বাড়ানোর জন্য প্রকৃত চিত্রকে বাদ দিয়ে শুধু দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এ ধরনের ভূল তথ্য তুলে না ধরা হয় যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।



একটি ভ্রমন কাহিনী/বাংগালীর বুদ্ধির কাছে চীনারাও হার মানল

একটি ভ্রমন কাহিনী/বাংগালীর বুদ্ধির কাছে চীনারাও হার মানল 

১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর,আটাব (এসোসিয়েশান অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ) এর মার্কেটিং কনফারেন্সে যোগদানের জন্য হংকং ও চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানে ছড়ে রওয়ানা হলাম।প্রথম গন্তব্যস্তান হংকং।তখন হংকং যুক্তরাজ্যের অধীন ছিল।

আমি সবে মাত্র চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরোলাম।মরহুম বড় ভাই আলহাজ্ব মোঃইউনুছ মিয়ার অকাল মৃত্যুর পর তারেক ওভারসীজ লিমিটেডের তখন আমি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলাম।প্রায় শ খানেক সদস্যের এক বিরাট বহর।আটাব,
চট্রগ্রাম থেকে আমরা প্রায়১৫ জন সদস্য যোগদান করেছিলাম। বাকীরা সবাই ঢাকার।যতদূর মনে পড়ে আমাদের সাথে ছিলেন চিটাগাং এয়ার এক্সপ্রেসের এনামুল ইসলাম, কনকর্ড ইন্টারন্যাশনালের আবু জাফর,এশিয়া ওভারসিজের আবদুল মান্নান,হাইওয়ে ওভারসীজের নুরুল আবছার দুলাল ,ন্যাশনাল ট্রাভেল ব্যূরোর মরহুম ছগীর ভাই,জম জম ইন্টারন্যাশনালের জিয়াউদদীন প্রমূখ ।

   হংকং শহরের মনকাড়া দৃশ্য

আগে থেকেই আমাদের ফাইভ ষ্টার হোটেলে থাকা এবং খাওয়া দাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল।বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ছাড়ে এবং হোটেলের বিশেষ কমিশনে এ আয়োজন চুড়ান্ত হয়।আটাব কেন্দ্রীয় কমিটি সমস্ত ব্যাপারটি দেখাশুনা করে।
বয়সে তরুন হওয়াতে আমি শুরু থেকে এই ভ্রমন নিয়ে খুবই উৎসুক ছিলাম।তাই সবকিছু আমি পরখ করে দেখছিলাম।

আমরা যথা সময়ে হংকং বিমান বন্দরে পৌছলাম।সবাই একাধিক  লাইনে ইমিগ্রেশনের জন্য দাড়িয়ে পড়ে।তখন বাংলাদেশের জন্য অন এরাইভাল ভিসা চালু ছিল।তখনো হংকং বৃটিশদের কলোনী ছিল।

হংকং এয়ারপোর্ট Legal Hotel লবিতে  লেখক মোঃ হরুন-অর -রশীদ
                 

হংকং এয়ারপোর্ট এক দেখাতেই মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।চারিদিকে চিমচাম পরিবেশ।খুবই পরিপাটি ও সুন্দর।চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা।এত সুন্দর পরিবেশে খানিকটা যেন নিজেকে হারিয়ে ফেললাম।ভাবতে লাগলাম কোথায় আমাদের বাংলাদেশ।
সবকিছু যেন ম্যাজিকের মত মনে হচ্ছে ।কি ব্যাস্ততা চারিদিকে।শতশত লোক আসছে আর যাচ্ছে ।

হংকং উপত্যাকার একটি দৃশ্যপট

একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় এয়ারপোর্টে কর্মরত বেশীর ভাগই মহিলা তরুনী এবং খুবই স্মার্ট। ছটফট তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাছ্ছে দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায়না।

ইমিগ্রেশনের পর সবাই লক্ষ্য করলেন কাউকে এক সপ্তাহ,আবার কাউকে তিন মাসের ভিসা দিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কোন বাচ বিচার নেই।দেখা গেছে যে লাইনে এক সপ্তাহের ভিসা দিয়েছে সে লাইনে সবাইকে এক সপ্তাহের ভিসাই দেয়া হয়েছে।অথচ অনেকের পাসপোর্টে আমেরিকার ভিসা লাগানো ছিল।সেটা কোন বিবেচনায় নিলেন না।সৌভাগ্যক্রমে আমি তিন মাসের ভিসা পেয়েছিলাম যদিওবা আমাদের ভ্রমন নির্দিষ্ট ছিল হংকং তিন দিন,চীন তিন দিন।

হংকং শহরের একটি চলমান দৃশ্য

হংকং সত্যি দেখার মত একটি শহর।সমুদ্রের সাথে লাগোয়া,ছোট বড় অনেক পাহাড়ের মাঝে কিছু সমতল ভূমি,এর মাঝেই অপূর্ব সুন্দর এই হংকং।

    হংকং এয়ারপোর্টে মরহুম ছগীর ভাই    ও লেখক মোঃ হারুন-অর-রশীদ       
                                                   

হংকং এর আয়তন প্রায় ২৭৫৫ বর্গ কিলোমিটার।যুক্তরাজ্যের সাথে ১০০ বছরের চুক্তি শর্ত অনুযায়ী এতদিন তাদের অধীন ছিল।
বৃটিশরা হংকংকে তাদের কলোনী বানিয়ে রেখেছিল।১৯৯৭ সালের ১ জুলাই
চুক্তি শেষে যুক্তরাজ্য এই শহরটি বর্তমানে চীনকে বুঝিয়ে দেয়।উন্নত বিশ্বের আদলে এই শহরকে গড়ে তোলা হয়েছে।এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত ভাল বলা যায়।শক্তিশালী অর্থনীতির কারনে হংকং উন্নত বিশ্বে স্তান করে নেয়।

একটা বিষয় খুবই অবাক করে দেয় চলাচলের রাস্তা এবং ফুটপাত এমনভাবে তৈরী যাতে গাড়ী দাড়ালে কোন অসুস্ত রোগী কিংবা সন্তান সহ মা অনায়াসে গাড়ীতে আরোহন করতে পারেন।দেখা গেছে বাচ্চাকে বেবি ট্রলীতে করে সারা শহর ঘুরাঘুরি করে প্রয়োজনে বেবি ট্রলী সহ বাচ্চাকে নিয়ে গাড়ীতে উঠে যাচ্ছেন  কোন রুপ প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই।অর্থাত যাত্রীবাহী  গাড়ী যখন দাড়ায় তখন গাড়াীর দরজা আর ফুটপাত
সমান হয়ে যায় তাই সহজে বাচ্চাকে সহ ট্রলী গাড়ীতে উঠে যায়।এতে মায়েদের সন্তান নিয়ে আমাদের দেশের মত  এত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়না।এই ব্যবস্তা সবখানে বিদ্যমান।

শহরের পাশদিয়ে ট্রেনের সুন্দর সাবওয়ে


আর একটি বিষয় ছোখে পড়ার মত।আমরা দেখেছি আমাদের দেশে সন্তান সম্ভবা মায়েরা নিজের পেটটাকে আড়াল করে রাখেন যাতে অন্যের দৃষ্টি এড়ানো যায়।এখানে ঠিক তার বিপরীত।এখানকার সন্তান সম্ভবা মায়েরা বেশী টাইট কাপড় পড়েন যাতে সবার নজরে পড়েন।এর কারন হিসাবে জানা যায় এতে করে মায়েরা অন্যের বেশী সহানুভূতি পেয়ে থাকেন।তাদের জন্য সবখানে অগ্রাধীকার।

হংকংশহরের বিপনি বিতান

 এবার আসল ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।তিন দিনের হংকংয়ে অবস্তান শেষে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চীনের পথে রওয়ানা হলাম।আমরা চীন ঢুকব হংকং এর সীমান্তবর্তী শহর শেনজেন দিয়ে।
হংকং এর রাজধানী Kowloon শহর থেকে আমরা সবাই সকালে ট্রেনে ছেপে বসলাম।প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট পর আমরা চীনের সীমান্তের শহর শেনজেন এর  কাছাকাছি পৌছে গেলাম।পথে কিছু ষ্টেশন অতিক্রম করে তবেই আমারা সীমান্তে পৌছলাম।

ট্রেনটি সম্পূর্ন স্বয়ংক্রীয়ভাবে চালিত।কোন ষ্টেশন পৌছার একটু আগে স্বয়ংক্রীয়ভাবে লাউড স্পীকারে ঘোষনা আসে।যাত্রীরা আগে থেকে তৈরী থাকেন।ট্রেন দাড়ানোর সাথে সাথে সবাই নেমে পড়ে আবার অনেকে উঠে পড়ে।ব্যাপারটা এমন যেন ছোখের পলকে সব কিছু ঘটছে।
এই ট্রেনের দরজা অনেক প্রশস্ত।।ট্রেনের বডি আার ফুটপাত সমান হয়ে যায়।অনায়াসে যে কোন লাগেজ উঠানামা করা যায়।যাত্রীরা সহজে উঠানামা করতে পারে তাই তত বেশী সময়ের প্রয়োজন হয়না।একটু পরে আমরা চীন সীমান্তে পৌছে গেলাম।

                                          পড়ন্ত বিকেলে হংকং এর দৃশ্য

এই সেই হংকং আর চীনের সীমান্ত পথ।মাঝখানে নদীর উপর একটা ব্রীজ দিয়ে সংযোগ তৈরী করা হয়েছে।আর এর উপরই বিশ্ব বিখ্যাত চলচিত্র অভিনেতা Bruce Lee এর সেই বিখ্যাত ছবি Exit The Dragon,Enter The Tiger এর স্যুটিং হয়েছিল যা আমি একটু পরখ করে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম।

চীনের শেনজেন শহর

সীমান্তবর্তী শহর হওয়াতে চীনের বেশীরভাগ মানুষ হংকংয়ের প্রবেশদার হিসাবে শেনজেনকে বেশী ব্যবহার করে থাকেন।প্রতি ৫ মিনিট অন্তর ট্রেনে আসে আর হাজার হাজার মানুষ দূদিকের সীমানা পার হয়ে অনবরত প্রবেশ করে এই সীমানা দিয়ে।দেখে মনে হবে যেন জনতার মিছিল। 
আমরা ট্রেন থেকে নেমে ইমিগ্রশনের কাজ সেরে বর্ডারে অবস্তিত চীনার ভিসা অফিসে ভিসার আবেদন জানালে তারা ব্যাক্তিগত ভাবে  ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।উপরন্তু তারা একসাথে এত বেশী বাংলাদেশীকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে।কারন ইতিপূর্বে এতবেশী বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থী কখনো দেখেনি।এখানে একটি কথা আমাদের স্মরনে রাখা উচিত যে সময়ের কথা বলছি তখন চীন ছিল পূরোপূরী কম্যূনিস্ট শাসিত কনজার্ভেটিক সরকার।তখন চীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক বেশী কড়াকড়ি ছিল।এভাবে ভিসার জঠিলতায় আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেল।আমরা দেখছি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা অনায়াসে ভিসা নিয়ে নিয়ে ঢুকে পড়ছে কিন্ত আমরা অবহেলিত রয়ে গেলাম।

চলমান ট্রেনের অভ্যন্তরীন Passage এ লেখক হারুন -অর-রশীদ 

এক পর্যায়ে তারা আমাদের ১০ জন করে গ্রূপ  ভিসা দেয়ার প্রস্তাব দেয়।কিন্তু আমাদের আটাব নেতারা তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।কারন গ্রূপ  ভিসার সমস্যা হলো সবাই একসাথে না ফিরলে পূনরায় হংকংয়ে প্রবেশ করা যাবেনা।একই ট্রেডের ব্যবসায়ী হিসাবে বিষয়টির গুরুত্ব আমরা বুঝি।এভাবে ভিসা অফিসারের সাথে দরকষাকষি করতে গিয়ে আমাদের পূরা দিনটাই মাটি হয়ে গেল।যেখানে আমরা দাড়িয়ে সেখানে খাবারের কোন হোটেল নাই।তাছাড়া সীমানা পার হয়ে যাওয়াতে ফিরে গিয়ে খাবার খাওয়া সম্ভব নয়।পূরোটা দিন প্রায় অভূক্ত রয়ে গেলাম।এক পর্যায়ে বেশ কিছু পেকেট ভর্তি আপেল পেলাম।৪টি বড় সাইজের আপেল ২০ হংকং ডলার। সবাই এক পেকেট করে নিয়ে আপেল দিয়েই দূপূরের Lunch সেরে নিলাম।একটু পরে খবর এলো তারা আমাদের ভিসা দিতে রাজী হয়েছে এই শর্তে প্রত্যককে নগদ ৫০০ ডলার দেখাতে হবে।কোন ট্রাভেলার্স চেক তারা গ্রহন করবে না।তার কারন হিসাবে তারা বলল পরের দিন সরকারী ছুটির দিন। তাই চাইলেও কেউ এ চেক ভাংগাতে পারবেনা।যদিওবা অনেকের কাছে হাজার হাজার ডলারের ট্রাভেলার্স চেক ছিল।

 শেনজেনের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্য

আটাব নেতারা এ প্রস্তাব গ্রহন করলেন এবং সবাইকে এক স্তানে জড়ো করে প্রস্তাব দিলেন প্রত্যকের হাতে যা নগদ ডলার আছে তা এক জায়গায় জমা করার।কার কত ডলার তা নোট করে রাখা হবে।চীনে প্রবেশ করে প্রত্যেকের ডলার ফিরিয়ে দেয়া হবে।উল্লেখ্য আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশী কয়কজন শেনজেন সীমান্তে অপেক্ষায় ছিলেন।তাদের সহযোগীতায় ভিসার বন্দোবস্ত সম্ভব হয়েছে।
শর্তানুযায়ী ১০ টি পাসপোর্ট সাথে ৫০০ ডলার করে প্রতিটিতে একসাথে ভিসা অফিসে জমা করা হয়। কিছুক্ষন পরে ভিসা ষ্টাম্পিং হলে ভিসা অফিসের লোক নাম কল করে ১০ জনকে সাথে নিয়ে সীমানা পেরিয়ে চীনে প্রবেশ করিয়ে তবে পাসপোর্ট হাতে দেয় যাতে একই ডলার পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।এভাবে ১০ জন করে তারা ভিসা দিতে লাগলো।একই সাথে তাদের গোয়েন্দারা আমাদের উপর কড়া নজর রাখছিল।তাদের ধারনা ছিল নগদ এত ডলার আমাদের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব হবেনা, তাই আমাদের অনেকে ভিসা পাবেনা।

শেনজেন শহরের ব্যস্ত সড়কের একটি Parkway তে লেখক মোঃ হারুন-অর-রশীদ

কিন্তু আমাদের ছিল বাংগালী বুদ্ধি যেটা তারা বুঝে উঠতে পারেনি।আটাব নেতারা হিসাব করে দেখলেন এই প্রক্রিয়ায় অধিকাংশের ভিসা লাগলেও ৭/৮ জন ভিসা পাবেনা।কারন নগদ ডলার তখন ফুরিয়ে যাবে।তারা বুদ্ধি করলেন নেতৃস্তানীয় একজন এখানে থেকে যাবেন শেষের ৭/৮ জনকেও সাথে নেবার ব্যবস্তা করবেন।সর্বশেষ ভিসা প্রার্থীর দলনেতাকে বুঝিয়ে দিলেন ওপারের সুপার সপ থেকে কয়েক পেকেট বিস্কিট নিয়ে এর ভিতর নির্দিষ্ট কিছু ডলার দিয়ে সীমান্ত প্রহরীর মাধ্যমে এপারে অবস্তান কারী আমাদের ভাইদের জন্য যেন পাঠিয়ে দেয়া হয়।পেকেটে ডলার থাকবে এটা যেন তারা কিছুতেই বুঝতে না পারে।যেই ভাবা সেই কাজ।দ্রত ওপার থেকে কথামত বিস্কিটের প্যাকেটে ডলার দিয়ে চীনা প্রহরীদের অনুরোধ করা হয় তারা যেন এপারে থেকে যাওয়া আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের দয়া করে বিস্কিটের পেকেট গুলো পৌছে দেন কারন তারা ক্ষুধার্ত।উল্লেখ্য সীমানা ততবেশী দূরে নয়, চোখে দেখা যায়।মাঝখানে বড় আকারের একটি মাঠ।আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা ঠিকই ওপারে আমাদের ভাইদের কাছে বিস্কিটের প্যাকেট পৌছে দেয়।
এদিকে ডলার ভরতি পেকেট হাতে আসার সাথে সাথে সবাই তৎপর হয়ে উঠেন।দ্রুত ডলার সহ বাকী পাসপোর্ট ভিসার জন্য জমা করা হয়।এতে চীনা কর্তারা খুবই তাজ্জব বনে গেলেন । এই ডলার গুলো কোথা থেকে পেল এটাই তাদের প্রশ্ন।রীতিমত তারা জেরা করতে লাগলেন।কারন তারা ভেবেছিলেন বাকী এ কয়জন আজ চীন ঢুকতে পারবেনা সেটাই তারা চেয়েছিলেন।অনেক বাক বিতন্ডার পর তারা ভিসা দিতে বাধ্য হলেন।আমাদের অভ্যর্থনাকারী বাংগালী বন্ধুরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হলেন যে সীমান্তবর্তী পরিচিত দোকান থেকে ডলার ধার করে এনেছেন আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের জন্য।এভাবে বাংগালীর বুদ্ধির কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন চীনারা।

 অপরুপ শেনজেন শহরবহূ কষ্টে ভিসা হাতে পেয়ে আমরা যখন শেনজেন শহরে প্রবেশ করি তখন সন্ধ্যা হয়ে যায়। খই ব্যস্ত একটি শহর এই শেনজেন। উন্নত স্থাপনার ছোঁয়া চতূর্দিকে। সবকিছু পরিপাটি ,সুন্দর করে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই শহরকে। সবকিছু নিখুঁত। শহরে ঢুকে আমরা হোটেলের গন্তব্যে হেটে চলেছি। আমাদের বাঙালি লোকাল গাইড আগেই আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন আসে পাশে গলিতে দাঁড়িয়ে কেউ ডাকলে আমরা যেন সেদিকে কর্ণপাত না করি। কারণ এটা একটা পর্যটনের শহর। এখানে নানা ধরণের মানুষ আর নানান ফন্দি থাকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে তরুণীরা রাতের আঁধারে পর্যকদের ফাঁদে ফেলে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। আমরা দেখলাম ঠিকই রাস্তার পাশে গলির মুখে তরুণীরা সেজে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে এবং ইশারা করছে কাছে যাবার জন্য। 

শেনজেনের একটি পার্ক এ পর্যটকেরা
আমরা যেহেতু আগে থেকে সতর্ক ছিলাম তাই তাদেরকে যতদূর সম্ভব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলাম। এভাবে কিছুদূর যাবার পর সবাইকে রাতের ডিনারের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে যাওয়া হলো। আমরা সবাই কিন্তু প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। দ্রুত সবাই ডিনারে মেতে উঠলেন।পানির তৃষ্ণা ছিল বেশি। সবাই আমাদের  দেশের মত খাবারের পরে পানি চাইলেন কিন্তু তার পরিবর্তে তারা দিলেন গরম পানি আর লাল চা । এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। আমরা অনুরোধ জানালাম ঠান্ডা পানির জন্য কিন্তু  দিলেন না। কারণ এই দেশে   চীনারা খাবারের পর ঠান্ডা পানি খায় না যার কারণে পানির কোনো ব্যাবস্তা নাই। আমরা খুবই হতাশ হয়ে গেলাম কারণ দীর্যদিনের চিরাচরিত অভ্যাস খাবারের পর পানি  ছাড়া আমাদেশের তৃপ্তি মেটেনা। অগত্যা গরম পানি দিয়েই আমাদের তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা চালালাম।কিন্তু কিছুতেই তৃষ্ণা নিবারণ করা যাচ্ছেনা। এছাড়া আমাদের র কোনো উপায় নেই। এভাবে চীনে আমাদেশের প্রথম দিনের অভিযাত্রা হোটেলে গিয়ে শেষ হলো।

***********************************************************************

লেখক:মো: হারুন-অর-রশীদ,সাবেক চেয়ারম্যান,শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদ।#সভাপতি ,লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং পারিজাত এলিট।#